জাতীয় নাগরিক দলের পঞ্চগড়-১ নির্বাচনী প্রার্থী ও উত্তরের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম সোমবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির স্বৈরাচারী রীতি পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তুলে ভোট চুরির হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জানালেন।
সমাবেশে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তার অবস্থান ও জাতীয় নাগরিক দলের উত্তরের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব উল্লেখ করে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন।
সারজিস আলমের মতে, জুলাই উত্থানের পর বিজয় অর্জনের পর কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী, যেগুলো পূর্বে দমনমূলক নীতির শিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, এখন স্বৈরাচারী প্রবণতা গ্রহণ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পূর্বের তুলনায় ভিন্ন, এবং এই পরিবর্তনের ফলে নতুন স্বৈরাচারী গোষ্ঠী উদ্ভব হয়েছে।
সারজিস আলম তিন থেকে পাঁচটি ‘নিও-অথরিটেরিয়ান’ গোষ্ঠীর অস্তিত্বের কথা বলেন, যারা জেলা থেকে ওয়ার্ড স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং জবরদস্তি, মাদক ব্যবসা, সিন্দিকেট, মামলার মাধ্যমে মুনাফা, হয়রানি ও হুমকি ইত্যাদি কার্যক্রমে লিপ্ত।
তিনি সতর্ক করেন, যারা ভোট চুরি করার উদ্দেশ্যে আসবে, তাদের শেষ গন্তব্য কেবল হাসপাতাল হতে পারে, কারণ স্বৈরাচারী কার্যকলাপের ফলে শারীরিক ক্ষতি অনিবার্য।
বিএনপির প্রতি তার সমালোচনায় তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে দলটি বাস্তবিক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত, ফলে পুরনো ও অশোভন রাজনৈতিক পদ্ধতি পুনরায় ব্যবহার করে সফলতা অর্জনের আশায় রয়েছে।
বিএনপি দাবি করে যে তরুণ প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্বের জন্য অযোগ্য, তবে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, উত্থানের সময় স্বাধীনতার জন্য তাদের সিনিয়র নেতারা কোথায় ছিলেন, পঞ্চগড় বা ঢাকায় তাদের কোনো মুখ দেখা যায়নি।
এভাবে তিনি বললেন, গোপন কোণায় লুকিয়ে নেতৃত্বের অভিনয় করার দিন শেষ, এবং এখন সকলকে সরাসরি মুখোমুখি হতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা হিসেবে তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার আধুনিকায়ন, ২৫০ শোয়ায় হাসপাতালের কার্যকরী চালু করা, বন্ধ হওয়া চিনি কারখানা পুনরায় চালু করা, একটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া তিনি শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, নদীর তীরের বাঁধ নির্মাণ, পঞ্চগড়কে মাদকমুক্ত এলাকা করা, পর্যটন উন্নয়ন এবং ১০,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
সারজিস আলম নিশ্চিত করেন, তার শাসনামলে প্রশাসনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা হবে, যাতে উন্নয়নমূলক কাজগুলো স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, এবং এই ধরনের সতর্কবার্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি থেকে এই অভিযোগের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



