ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে স্কটিশ শ্রম দলের নেতা আনাস সারওয়ার এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের একের পর এক পদত্যাগের পর পদত্যাগের দাবি বাড়ছে। এপস্টেইন‑ম্যানডেলসন কেলেঙ্কারির ফলে সরকারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, যা ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সোমবার স্কটিশ শ্রম দলের নেতা আনাস সারওয়ার ডাউনিং স্ট্রিটে তৎক্ষণাৎ একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে স্টারমারের পদত্যাগের আহ্বান জানায়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অবস্থা শ্রম দলের জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং নেতৃত্বে তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন প্রয়োজন।
সারওয়ার পাশাপাশি শ্রম দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান বিশৃঙ্খলা অব্যাহত থাকলে শ্রম দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সারওয়ার স্টারমারের ওপর এপস্টেইন‑ম্যানডেলসন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্টারমার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বহু ভুল করেছেন এবং এর ফলে স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে শ্রম দলের জয় সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এপস্টেইন‑ম্যানডেলসন কেলেঙ্কারিতে স্টারমার লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেন।
ম্যাকসুইনি পদত্যাগের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্ব সম্পর্কে জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন। এই অভিযোগের ফলে তার পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাকসুইনির পদত্যাগের একদিন পর স্টারমারের যোগাযোগ প্রধান অ্যালানও পদত্যাগ করেন। অ্যালানও ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়ে জানার পর স্টারমারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার অভিযোগে সমালোচনার মুখে ছিলেন। তার পদত্যাগ শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
শ্রম দলের অভ্যন্তরে এই ধারাবাহিক পদত্যাগের ফলে স্টারমারের নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্কটিশ শ্রম দলের নেতা সারওয়ার উল্লেখ করেন, এপস্টেইন‑ম্যানডেলসন কেলেঙ্কারির প্রভাব স্কটল্যান্ডে শ্রম দলের জনপ্রিয়তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষয় করেছে।
আসন্ন মে মাসের স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন শ্রম দলের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্টারমারের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে পদত্যাগ ও সমালোচনা দেখা দিলে, স্কটিশ শ্রম দলের ভোটাভুটি ফলাফল ও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে স্টারমারকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের মুখে দেখা যাচ্ছে। শ্রম দলের অভ্যন্তরে পদত্যাগের চেইন এবং স্কটিশ শ্রম দলের নেতার সরাসরি আহ্বান একসঙ্গে সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে।



