18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাজাতীয় জাদুঘরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পুনরায় চালু, ৭৬টি গাড়ি ৩,২০০ স্থানে বই সরবরাহ

জাতীয় জাদুঘরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পুনরায় চালু, ৭৬টি গাড়ি ৩,২০০ স্থানে বই সরবরাহ

সোমবার জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পুনরায় চালু করা হয়, যা এক বছরের বেশি সময়ের বিরতির পর সারা দেশে বই পাঠের সেবা পুনরায় শুরু করে। এই উদ্যোগের সমন্বয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হাতে, এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের আওতায় ৭৬টি মোবাইল লাইব্রেরি গাড়ি ব্যবহার করে দেশব্যাপী ৩,২০০টি নির্ধারিত স্থানে বই বিতরণ করা হবে, বিশেষ করে নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য পাঠের সুযোগ বাড়ানো লক্ষ্য। প্রতিটি গাড়িতে বিভিন্ন বয়সের পাঠকদের জন্য উপযুক্ত বই রাখা থাকবে, যাতে গ্রাম ও শহরের দূরবর্তী এলাকায়ও পাঠের পরিবেশ গড়ে ওঠে।

প্রকল্পের অনুমান অনুযায়ী, এই মোবাইল লাইব্রেরি সেবা চালু হওয়ার প্রথম বছরেই প্রায় ৩,৭৫,০০০ পাঠককে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। এছাড়া ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘের মাধ্যমে ৮,০০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে চালু হয় এবং তৃতীয় পর্যায়ের সমাপ্তি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত। তৃতীয় পর্যায়ে সেবা বিস্তৃত করে আরও বেশি গ্রাম ও নগর এলাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পাঠের সুযোগ সমানভাবে বিতরণ হয়।

প্রারম্ভিক সময়ে, ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রই এই প্রকল্পের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করত। তবে ১ জুলাই ২০১৮ থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কাজ করে, আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু করে, ফলে প্রকল্পের পরিসর ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সময়সীমা ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত, এবং এই সময়ের মোট অনুমানিক ব্যয় ১১১ কোটি ১৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, বই সংগ্রহ, কর্মী বেতন এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের খরচ মেটানো হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, বই পড়া সমাজ গঠনের মৌলিক ভিত্তি এবং সঠিক বই পাঠকের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সেবা পাঠকের দরজায় সরাসরি ভালো বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও বলেন, বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে বইমুখী করা জরুরি, কারণ তা না হলে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য অর্জন করা কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সমর্থন সম্পর্কে আলোচনা করেন।

পাঠকরা যদি নিকটস্থ মোবাইল লাইব্রেরির সময়সূচি জানতে চান, তবে স্থানীয় পোস্টার, সামাজিক মিডিয়া পেজ অথবা মন্ত্রণালয়ের হটলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। পরিবারে ছোট শিশুরা নিয়ে লাইব্রেরি গাড়িতে যাওয়া, তাদের পছন্দের বই নির্বাচন করা এবং নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments