অস্কার ও টনি জয়ী অভিনেত্রী ক্যাথরিন জেটা-জোন্স টেট টেইলরের পরিচালিত নতুন মানসিক থ্রিলার ‘কিউপিড’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। ফিল্মটি বিবাহবিচ্ছেদের প্রান্তে থাকা দম্পতির গল্প তুলে ধরবে, যেখানে জেটা-জোন্সের চরিত্র একটি অস্বাভাবিক বিবাহ পরামর্শক। তার পদ্ধতি দম্পতিকে ধীরে ধীরে বিপজ্জনক পথে নিয়ে যায়।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল একটি দম্পতি, যারা এক সপ্তাহান্তে সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটিয়ে নেবার চেষ্টা করে। তারা পরামর্শকের বাড়িতে একত্রিত হয়, যেখানে প্রথমে সবকিছু আশাব্যঞ্জক মনে হয়। তবে পরামর্শকের অনন্য কৌশলগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ কঠোর ও হিংস্র হয়ে ওঠে।
টেট টেইলর, যিনি ‘দ্য হেল্প’ ও ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ এর মাধ্যমে পরিচিত, এই প্রকল্পে পরিচালক ও প্রযোজক উভয়ই হবেন। তিনি ভ্যান ডাইকের ভাইদের রচিত চিত্রনাট্য থেকে কাজ করছেন, যারা পূর্বে ‘ডোন্ট ওরি ড্যার্লিং’ ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। টেইলরের মতে, ‘কিউপিড’ দর্শকদের পরামর্শের ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
প্রযোজনা দলে জটিলতা যোগ করেছে জোয়ান নরিস এবং রায়ান ডোনেল স্মিথ, যারা টেইলরের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি পরিচালনা করবেন। এই সংমিশ্রণ চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উভয়ই বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুটিং কাজের সময়সূচি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শেষ বা শরৎকালের প্রথম দিকে নির্ধারিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মিসিসিপির ন্যাটচেজ শহরে দৃশ্যায়ন করা হবে, যা ছবির পরিবেশে প্রামাণিকতা যোগ করবে। স্থানীয় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের ব্যবহার চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক বিক্রয় সংস্থা আপগ্রেড ‘কিউপিড’ এর আন্তর্জাতিক বিক্রয় পরিচালনা করবে এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্র বাজারে (ইএফএম) বেনেলিক্সে প্রকল্পটি উপস্থাপন করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছবির বৈশ্বিক বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অধিকার সংক্রান্ত কাজ সিএএ মিডিয়া ফাইন্যান্স পরিচালনা করবে, যা প্রকল্পের আর্থিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। সিএএ মিডিয়া ফাইন্যান্সের অংশগ্রহণ ছবির মার্কিন বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়াবে।
ক্যাথরিন জেটা-জোন্সের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ইউটিএ, টেইলরের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা সিএএ ও লিচটার, গ্রসম্যান, নিকলস, ফেল্ডম্যান, রোগাল, শিকোরা ও ক্লার্ক, এবং ভ্যান ডাইকের ভাইদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ডব্লিউএমই। এই সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রকল্পের সঠিক পরিচালনা ও প্রচার নিশ্চিত করবে।
‘কিউপিড’ ছবির থিম বিবাহ পরামর্শের অপ্রচলিত পদ্ধতি ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবে, যা দর্শকদের মানসিক উত্তেজনা ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করবে। চলচ্চিত্রের শিরোনামই ইঙ্গিত করে যে প্রেম ও সম্পর্কের জটিলতা কখনও কখনও বিপর্যয়কর হতে পারে।
প্রযোজনা দল ছবির সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য অভিজ্ঞ টিম গঠন করেছে, যা গল্পের মেজাজকে আরও গভীর করে তুলবে। বিশেষ করে দম্পতির মানসিক অবস্থা ও পরামর্শকের কৌশলকে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
চিত্রনাট্য লেখক ভ্যান ডাইকের ভাইদের মতে, ‘কিউপিড’ একটি আধুনিক দম্পতির সম্পর্কের চ্যালেঞ্জকে নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করবে, যেখানে প্রেম, বিশ্বাস ও ধোঁকা একসঙ্গে মিশে যাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি সমসাময়িক সমাজের সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরবে।
শুটিংয়ের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং স্থানীয় কর্মী ও কাস্টের সঙ্গে সমন্বয় কাজ চলছে। ন্যায়সঙ্গত সময়সূচি ও বাজেট মেনে চলা নিশ্চিত করতে প্রোডাকশন টিম কঠোরভাবে কাজ করছে।
‘কিউপিড’ ছবির মুক্তি তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী প্রদর্শিত হবে। মুক্তির আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও কাস্টের সমন্বয় ‘কিউপিড’কে একটি উচ্চমানের থ্রিলার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে, যা দর্শকদের মানসিক উত্তেজনা ও চিন্তাভাবনা উভয়ই প্রদান করবে। এই প্রকল্পটি চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



