18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জানালার গ্রিলে ঝুলে মৃত পাওয়া গেল

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জানালার গ্রিলে ঝুলে মৃত পাওয়া গেল

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাউজিং ই‑ব্লক এলাকায় অবস্থিত সাততলা আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলা থেকে রবিবার রাত প্রায় দশটায় এক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানালার গ্রিলে ঝুলে থাকা অবস্থায় দেহটি পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানের ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, দেহটি পাওয়া যায় যখন পুলিশ দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। দেহটি জানালার গ্রিলে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়, ফলে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হবে।

মৃত শিক্ষার্থী নিঝুম সামিয়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পাবনার চাটমোহর উপজেলার শালিখা গ্রাম থেকে আসা মো. আব্দুস সালামের কন্যা। শিক্ষাকালীন সময়ে তিনি মেসে থাকতেন, তবে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বাড়ি বদল করে কলেজের পাশের একটি বাড়িতে রুম সাবলেট করে বসবাস শুরু করেন।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রিয়াজ উদ্দিন জানান, নিঝুমের বাবা রোববার রাতে ফোনে জানিয়ে দেন যে মেয়ে ফোন ধরছে না এবং রুমে থাকলে ডেকে দেখতে বলেছিলেন। রিয়াজ তৎক্ষণাৎ নিঝুমের পাশের রুমের অন্য এক মেয়ের সঙ্গে গিয়ে ডেকতে শুরু করেন, তবে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি নিঝুমের বাবাকে জানিয়ে দেন।

নিঝুমের বাবা আব্দুস সালাম জানান, তার মেয়ে মেডিকেল ভর্তি হওয়ার পর মেসে থাকত। পড়াশোনার সমস্যার কারণে ২৩ জানুয়ারি তাকে উপরে উল্লিখিত বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় শেষবার তার সঙ্গে কথা হয়, আর রবিবার তার ফোনে কোনো উত্তর না পেয়ে তিনি বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে ঘটনাটি জানেন।

পুলিশের দল দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশের পর দেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। রিয়াজ উদ্দিন উল্লেখ করেন, দেহটি পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠায় এবং মৃতদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম পড়াশোনায় খুবই মেধাবী এবং এক বছরের মধ্যে ডাক্তার হয়ে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি জানান, দ্বিতীয় বর্ষের পর থেকে সব মেয়ের জন্য মেডিকেল কলেজে আবাসিক সিটের ব্যবস্থা থাকে, তবু কেনো কিছু শিক্ষার্থী মেসে-বাসায় থাকে তা স্পষ্ট নয়।

অধ্যক্ষ আরও উল্লেখ করেন, নিঝুমের কোর্স টিচারদের কাছেও কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক রিপোর্টের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তা ভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া গৃহীত হবে।

পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে একটি FIR দায়ের করেছে এবং তদন্তের অধীনে সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেহের অবস্থান, গ্রিলের ব্যবহার এবং রুমের ভাড়া চুক্তি ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আইনি দিক থেকে, যদি আত্মহত্যা নিশ্চিত হয় তবে তা ফৌজদারি দায়ের আওতায় না এসে পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকে সমাধান করা হবে; অন্যথায় সন্দেহভাজন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ ও ফরেনসিক দল একসাথে কাজ করে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার প্রতিবেদন করার সময় পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করা দরকার। কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত অনুমান বা অপ্রমাণিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments