আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) লাহোরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ফলাফল প্রকাশ করেছে। বৈঠকে ICC, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অংশগ্রহণ করেছে। বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তগুলোতে শাস্তি না এবং ভবিষ্যৎ ইভেন্টের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
বৈঠকটি দুই দিন ধরে লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সকল বিষয়বস্তু উন্মুক্তভাবে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি শোনার সুযোগ দেওয়া হয়। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে ওঠে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাত্রি শূন্যে লাহোরে পৌঁছান। তিনি রবিবারের প্রারম্ভিক সময়ে বিমান ধরেছিলেন। তার উপস্থিতি বৈঠকে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।
অন্যান্য ICC পূর্ণ সদস্য দেশগুলো ভার্চুয়ালভাবে যুক্ত হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা আলোচনায় অংশ নেয়। এই পদ্ধতি বৈশ্বিক অংশগ্রহণকে সহজ করে।
বৈঠকের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানানো হয়। এই আহ্বান বৈঠকের আলোচনার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ICC-এর প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে যে তিনটি সংস্থা উন্মুক্ত, গঠনমূলক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ সম্পন্ন করেছে। আলোচনায় উভয় পক্ষের মতামত সমানভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলস্বরূপ একটি স্পষ্ট সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।
বৈঠকে আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক ক্রিকেট দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের হোস্টিং প্রক্রিয়া এবং বাজারের সম্প্রসারণ বিষয়ক বিষয়গুলোও আলোচিত হয়। এসব বিষয়ের ওপর সম্মতিপূর্ণ মতামত গৃহীত হয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় দল টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার কথা ICC স্বীকার করেছে। এই অনুপস্থিতি দলের জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সমগ্র ক্রিকেটের ওপর প্রভাব না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ICC বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে মূল্যবান পূর্ণ সদস্য হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। বোর্ডের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং গ্লোবাল গেমের বিকাশে তার ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণবন্ত বাজারগুলোর একটি হিসেবে ২ কোটি বেশি ভক্তের দেশকে ICC সমর্থন জানিয়েছে। বাজারের বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমর্থন দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াবে।
বাংলাদেশের টিমের অ-অংশগ্রহণের ফলে দেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে না, এটাই ICC-এর দৃঢ় অবস্থান। ভক্তদের উত্সাহ এবং অবকাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক, ক্রীড়া বা প্রশাসনিক কোনো শাস্তি আরোপ করা হবে না। এই সিদ্ধান্ত সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমঝোতার ফল।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধিকার রয়ে গেছে বিরোধ সমাধান কমিটি (DRC) এর কাছে আবেদন করার। এই অধিকার ICC-এর বর্তমান বিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত।
সমঝোতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ICC ইভেন্টের হোস্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ইভেন্টটি ২০৩১ সালের পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত হবে। হোস্টিং প্রক্রিয়া সাধারণ ICC মানদণ্ড অনুসারে পরিচালিত হবে।
ইভেন্টের পরিকল্পনা, সময়সূচি এবং কার্যকরী প্রয়োজনীয়তা সবই স্বাভাবিক ICC প্রক্রিয়ার অধীনে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই সমঝোতা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। উভয় পক্ষের সহযোগিতা অঞ্চলের খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।



