18 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতির‌্যাব ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খোকানকে গ্রেফতার

র‌্যাব ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খোকানকে গ্রেফতার

র‌্যাব আজ চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার কর্মস্থলে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর অন্যতম সমন্বয়কারী মোঃ ইব্রাহিম খোকানকে আটক করেছে। তিনি সরকার কর্তৃক নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের DP World-কে লিজে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধে কর্মী ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অভিযোগে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার প্রক্রিয়া র‌্যাব‑৭ টিমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে বন্দর পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

ইব্রাহিম খোকান একই সঙ্গে ‘চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদবী তাকে বন্দর কর্মী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাবশালী করে তুলেছে এবং এই কারণে তার গ্রেফতার শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে বিশাল সাড়া ফেলেছে।

‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ হল বন্দর কর্মী ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম, যা NCT-কে DP World-কে লিজে দেওয়ার বিরোধে প্রতিবাদ চালিয়ে আসছে। কর্মীরা দাবি করে যে, এই লিজ বন্দর কর্মীদের চাকরি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশের কন্টেইনার টার্মিনালের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করবে।

খোকানের গ্রেফতারসহ এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন কর্মী এই প্রতিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছে। পূর্বে একই সপ্তাহে বন্দর কর্মীদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন স্থানে থেকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ র‌্যাব‑৭ টিমের কার্যক্রম নিশ্চিত করে জানান, খোকানকে বন্দর পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি ‘বন্দর প্রতিবাদ ও ধর্মঘট’ সংক্রান্ত মামলায় জড়িত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রেফতার প্রক্রিয়া আইনগত ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।

সেই একই দিনে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঁচজন কর্মীকে বিভিন্ন বন্দর এলাকার থেকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। এই কর্মীরা একই প্রতিবাদ ও ধর্মঘটের অভিযোগে আটক হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতিবাদকারী শ্রমিক গোষ্ঠী দাবি করে যে, NCT-কে বিদেশি কোম্পানির হাতে হস্তান্তর করা বন্দর কর্মীদের বেতন, কাজের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা সরকারকে লিজ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করতে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানায়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, NCT-কে DP World-কে লিজে দেওয়া দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করবে। সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিজ চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

এই ঘটনার পর বন্দর কর্মী গোষ্ঠীর মধ্যে অব্যাহত প্রতিবাদ এবং আইনগত লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো আদালতে মামলার ফলাফল প্রত্যাশা করে এবং একই সঙ্গে অতিরিক্ত ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, বন্দর কর্মীদের এই প্রতিবাদ এবং গ্রেফতার ঘটনা দেশের শ্রম নীতি ও বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে এই বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আটক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলি আদালতে শোনার অপেক্ষা করছে। র‌্যাব ও বন্দর পুলিশ উভয়ই আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করবে। একই সঙ্গে শ্রমিক গোষ্ঠী তাদের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

বন্দর কর্মীদের প্রতিবাদ ও গ্রেফতার সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের বাণিজ্যিক নীতি, শ্রমিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রেক্ষাপটে আদালতের রায় এবং সরকারী নীতির দিকনির্দেশনা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গঠন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments