ইউক্রেনের প্রথম স্কেলেটন রেসার ভ্লাদিস্লাভ হেরাসকেভিচ কোর্টিনা-দোলে শীতকালীন অলিম্পিকের প্রশিক্ষণ সেশনে এমন একটি হেলমেট পরিধান করেন, যার ওপর দেশের যুদ্ধবিধ্বস্তদের ছবি মুদ্রিত ছিল। তিনি এই কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে চলমান সংঘাতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।
হেলমেটের উপর কেবলমাত্র নাম নয়, শহীদদের মুখমণ্ডলও দেখা যায়, যা হেরাসকেভিচের মতে যুদ্ধের শিকারদের স্মরণ করিয়ে দেয়। ছবিগুলোতে তরুণ ওজন উত্তোলনকারী আলিনা পেরেগুদোভা, বক্সার পাভলো ইশচেনকো এবং আইস হকি খেলোয়াড় অলেক্সি লগিনভের মতো ক্রীড়াবিদ অন্তর্ভুক্ত। হেরাসকেভিচ উল্লেখ করেন, এদের মধ্যে কিছু তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।
গেমসের আগে তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা করে ছিলেন, অলিম্পিককে যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি মঞ্চে রূপান্তরিত করবেন। এই প্রতিশ্রুতি তাকে ২০২২ বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী সমারোহে ইউক্রেনের পতাকা বহনকারী হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। সেই সময়ও তিনি “নো ওয়ার ইন ইউক্রেন” সাইন ধরে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকে আকর্ষণ করেন, যা রাশিয়ার আক্রমণের ঠিক কয়েক দিন আগে ঘটেছিল।
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) হেলমেটের ডিজাইন সম্পর্কে ইউক্রেনের অলিম্পিক কমিটিকে জানিয়ে দেয় এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। হেরাসকেভিচের মতে, আইওসির সঙ্গে চলমান আলোচনা এখনও সমাপ্ত হয়নি, তবে তিনি নিয়ম মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অলিম্পিক চার্টারের রুল ৫০.২ স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত প্রচার নিষিদ্ধ করে, বিশেষ করে অলিম্পিক স্থানে। হেরাসকেভিচ জোর দিয়ে বলেন, তিনি এই বিধানকে সম্মান করে ক্রীড়া মঞ্চে যুদ্ধের বার্তা পৌঁছানোর উপায় খুঁজছেন, যাতে কোনো সরাসরি প্রতিবাদ না হয়।
রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের উপর ২০২২ সালের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া থেকে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে কিছু ক্রীড়াবিদকে নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আইওসি সাম্প্রতিকভাবে ১৩ রাশিয়ান ক্রীড়াবিদকে মিলা-কোর্টিনা অলিম্পিকের জন্য “ইন্ডিভিজুয়াল নিউট্রাল অ্যাথলিট” (এআইএন) হিসেবে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পরেও হেরাসকেভিচের হেলমেট বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সমাধান হয়নি, এবং আইওসির চূড়ান্ত মতামত এখনও অপেক্ষমান। বিবিসি স্পোর্টস এই বিষয়ে আইওসির কাছ থেকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
হেরাসকেভিচের এই উদ্যোগ ক্রীড়া ও মানবিক বিষয়ের সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি নিজের ক্রীড়া ক্যারিয়ারকে ব্যবহার করে যুদ্ধের শিকারদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বজায় রাখতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে এই বার্তা বহন করবেন, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে তার বর্তমান পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



