রেডিওহেডের গিটারিস্ট জনি গ্রিনউড এবং চলচ্চিত্র পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসন ‘মেলানিয়া’ শিরোনামের ডকুমেন্টারিতে ব্যবহার করা ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ ছবির সঙ্গীত অপসারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে ইউনিভার্সাল পিকচার্স এই সঙ্গীত ব্যবহার করার সময় গ্রিনউডের অনুমতি নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তার কম্পোজার চুক্তির লঙ্ঘন বলে তারা দাবি করছেন। এই দাবি সোমবার প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ ছবির সাউন্ডট্র্যাকের একটি অংশ ‘মেলানিয়া’ ডকুমেন্টারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যদিও গ্রিনউডের সঙ্গীতের কপিরাইট তিনি নিজে না রাখলেও তার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের ব্যবহার অনুমোদন প্রয়োজন। ইউনিভার্সাল পিকচার্স এই ব্যবহার অনুমোদন না করে কাজটি প্রকাশ করেছে, ফলে গ্রিনউড ও অ্যান্ডারসন সঙ্গীতটি সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখিত সঙ্গীতটি ‘বার্বারা রোজ’ নামের একটি টুকরা, যা গ্রিনউড ২০১৭ সালের পিরিয়ড ড্রামা ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ ছবির জন্য রচনা করেছিলেন। এই টুকরাটি মূলত ছবির নাটকীয় মুহূর্তে ব্যবহার হয়েছে এবং তার সুরের স্বতন্ত্রতা চলচ্চিত্রের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে। এখন এই একই সুর ‘মেলানিয়া’ ডকুমেন্টারিতে ব্যবহার হওয়ায় সৃষ্টিকর্তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
‘মেলানিয়া’ ডকুমেন্টারিটি ব্রেট রাটনার পরিচালিত এবং ইউনিভার্সাল পিকচার্সের অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। চলচ্চিত্রটি ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনের ২০ দিনের একটি পর্যালোচনা উপস্থাপন করে, যা ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট শপথের আগে ঘটেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে এই ডকুমেন্টারির মোট বক্স অফিস প্রায় ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যদিও নির্মাণ ও বিপণনের জন্য স্টুডিও প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
ডকুমেন্টারিতে ‘ফ্যান্টম থ্রেড’ সঙ্গীতের পাশাপাশি রোলিং স্টোনসের ‘গিমি শেল্টার’, মাইকেল জ্যাকসনের ‘বিলি জিন’, দ্য হিউম্যান লি’স ‘এভরিবডি ওয়ান্টস টু রুল দ্য ওয়ার্ল্ড’, রাভেলের ‘বোলেরো’ এবং জেমস বেয়ারনের ‘ইটস এ ম্যান’স ম্যান’স ম্যান’স ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি বিখ্যাত গানের অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ধরনের নিল ড্রপগুলো ডকুমেন্টারির সাউন্ডট্র্যাককে সমৃদ্ধ করেছে, তবে একই সঙ্গে কপিরাইট সংক্রান্ত জটিলতা বাড়িয়েছে।
ইউনিভার্সাল পিকচার্সের এই সঙ্গীত অপসারণের অনুরোধের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাতে এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। হলিউড রিপোর্টার এই বিষয়টি নিয়ে ইউনিভার্সালকে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতি চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত শিল্পে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরছে।
যদি গ্রিনউড ও অ্যান্ডারসনের দাবি গ্রহণ করা হয়, তবে ‘মেলানিয়া’ ডকুমেন্টারির ভবিষ্যৎ সংস্করণে ‘বার্বারা রোজ’ সুরটি বাদ দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশগুলো পুনরায় সম্পাদনা করা হবে। এই ধরনের পরিবর্তন ডকুমেন্টারির স্ট্রিমিং রিলিজে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বর্তমানে এটি প্রাইম ভিডিওতে প্রকাশের পথে রয়েছে। শিল্পের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কপিরাইট সম্মতি নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে এমন বিরোধ এড়াতে সহায়ক হবে।



