থেমস ভ্যালি পুলিশ অ্যান্টি‑মনার্কি গোষ্ঠী রিপাবলিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে প্রাক্তন ডিউক অফ ইয়র্ক অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন বাণিজ্যিক তথ্য ভাগ করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ইমেইলগুলোতে প্রাক্তন রাজকুমার এপস্টেইনকে সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভিয়েতনাম ভ্রমণের পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের গোপন সুযোগের বিবরণ পাঠিয়েছেন।
রিপাবলিক, যা রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অংশ, এই বিষয়টি পুলিশে জানিয়ে দেয় এবং এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্ভাব্য যোগাযোগের রেকর্ড প্রকাশের দাবি করে। অভিযোগের মূল দিক হল, বাণিজ্যিক রায়ভূমি হিসেবে কাজ করা রায়দূতদের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও, অ্যান্ড্রু এই দায়িত্ব লঙ্ঘন করে তথ্য শেয়ার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
থেমস ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা অভিযোগের কপি পেয়েছেন এবং প্রোটোকল অনুযায়ী তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশ কোনো মন্তব্যে বাধা দেয়নি, তবে জানিয়েছেন যে তদন্তের সব ধাপ স্বচ্ছভাবে চলবে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক রায়দূত হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন এশীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দায়িত্বে ছিলেন এবং সরকারী সফরের সময় গোপনীয় তথ্যের সুরক্ষার জন্য কঠোর নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক ছিল।
মার্কিন সরকার সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ করা ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, প্রেরক হিসেবে অ্যান্ড্রুকে চিহ্নিত করা একটি ঠিকানা থেকে এপস্টেইনকে বিভিন্ন সরকারি সফরের বিবরণ এবং বিনিয়োগের গোপন সুযোগের ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে। এই ইমেইলগুলোতে সফরের তারিখ, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদারদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষ করে ৭ অক্টোবর ২০১০ তারিখের ইমেইলে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, চীন (শেনঝেন) এবং হংকং সফরের পরিকল্পনা পাঠিয়েছেন। ইমেইলে উল্লেখ আছে, এ সফরে এপস্টেইনের ব্যবসায়িক সহযোগীরা সঙ্গে ছিলেন, যা বাণিজ্যিক রায়দূতের গোপনীয়তা নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হতে পারে।
সফরের পর, ৩০ নভেম্বর একই বছরে অ্যান্ড্রু তার তখনকার বিশেষ সহকারী অমিত প্যাটেল থেকে প্রাপ্ত সরকারি রিপোর্টগুলো মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে এপস্টেইনকে ফরোয়ার্ড করেন। এই দ্রুত প্রেরণ প্রক্রিয়া গোপনীয় তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
অন্য একটি ইমেইল বিনিময়ে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন প্রকল্পের বিনিয়োগের গোপন বিশ্লেষণ পাঠিয়েছেন। ঐ সময়ে এই প্রকল্পটি ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং যুক্তরাজ্য সরকারের তহবিল দিয়ে চালু ছিল।
সেই সময়ের ব্যবসা সচিব স্যার ভিন্স ক্যাবল এই বিষয়টি জানার পর মন্তব্য করেন, তিনি এ পর্যন্ত অ্যান্ড্রু কোনো বিনিয়োগের গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন তা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন এবং এটি প্রথমবারের মতো তার নজরে এসেছে।
অ্যান্ডু নিজে সবসময়ই এই ধরনের কোনো ভুল কাজের অস্বীকার করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, এপস্টেইনের ফাইলগুলোতে তার নাম উল্লেখ থাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অনিয়মের সূচক নয়। তিনি দাবি করেন, সব তথ্যই সরকারি প্রোটোকল অনুসারে পরিচালিত হয়েছে।
এই অভিযোগের ফলে রাজপরিবারের বাণিজ্যিক রায়দূত হিসেবে ভূমিকা এবং গোপনীয়তা রক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। থেমস ভ্যালি পুলিশ যদি প্রমাণে পৌঁছায়, তবে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং ভবিষ্যতে রায়দূতদের দায়িত্ববোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের দাবি বাড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই বিষয়টি রাজতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সরকারকে রায়দূত নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।



