ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড সোমবার ঘোষণা করেছে যে, দেশের কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। টেস্ট ও টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ব্যাটিং আইকন বিরাট কোহলি ও রাচিন রবীন্দ্রকে পূর্বে থাকা এ+ (A+) গ্রেড থেকে নিম্ন স্তরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বোর্ড এ+ ক্যাটেগরি বিলুপ্ত করে এ (A) গ্রেডকে শীর্ষ স্তর হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
বিবরণে বলা হয়েছে যে, নতুন কাঠামোতে প্রতিটি গ্রেডের বেতন প্রকাশ করা হয়নি, তবে গত বছর শীর্ষ গ্রেডের চুক্তি ধারকরা প্রায় $৭৭২,০০০ বার্ষিক বেতন পেয়েছিলেন। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, এ গ্রেডের চুক্তি এখনই সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে।
মোট ৩০ জন অভিজ্ঞ পুরুষ ক্রিকেটারকে এই নতুন চুক্তি কাঠামোর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সকল খেলোয়াড়ই পূর্বে থেকেই দলের অংশ এবং কোনো নতুন মুখ যুক্ত হয়নি। চুক্তিগুলো তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে, যা এ, বি এবং সি গ্রেড নামে পরিচিত।
এ গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হলেন শুবমান গিল, জাসপ্রিত বুমরাহ এবং রাচিন রবীন্দ্র (রবীন্দ্র জেডেজা)। এই তিনজনকে শীর্ষ স্তরের চুক্তি প্রদান করা হয়েছে, যা পূর্বে এ+ গ্রেডের সমতুল্য ছিল।
বি গ্রেডে তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন সুনদার, রাচিন রবীন্দ্র (রোহিত শর্মা), বিরাট কোহলি, মোহাম্মদ সিরাজ, হারদিক পাণ্ড্য, রিশভ পান্ত, কুলদীপ যাদব, যশস্বি জয়সওয়াল, সুর্যকুমার যাদব এবং শ্রীয়াস ইয়ার। এই গ্রুপের চুক্তি এ গ্রেডের তুলনায় কিছুটা কম বেতন প্রদান করবে, তবে এখনও উচ্চমানের সুবিধা নিশ্চিত করে।
সি গ্রেডে রয়েছে অক্ষার পাটেল, তিলক ভার্মা, রিনকু সিং, শিবম দুবে, সঞ্জু সামসন, অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপ, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, ভারুণ চকরাভারথি, নিতিশ কুমার রেড্ডি, অভিষেক শর্মা, সাই সুধারসন, রবি বিশ্নয় এবং রুতুরাজ গাইকওয়াদ। এই স্তরের চুক্তি মূলত বিস্তৃত দলের ভিত্তি গঠন করে এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়তা করে।
বিরাট কোহলি ও রাচিন রবীন্দ্রের গ্রেড হ্রাসের পেছনে মূল কারণ হল তাদের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট থেকে অবসর। যদিও তারা এখনও একদমই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, তবে চুক্তির স্তর তাদের বর্তমান খেলাধুলার অবস্থা প্রতিফলিত করে।
চুক্তি পুনর্গঠন নিয়ে আর্থিক বিশদ প্রকাশ না করলেও, বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট যে, শীর্ষ স্তরের চুক্তি এখন এ গ্রেডে সীমাবদ্ধ থাকবে। এ পরিবর্তন ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও ফরম্যাটে অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
নতুন চুক্তি কাঠামো আগামী মৌসুমের জন্য কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ ফরম্যাটে দেশের প্রতিনিধিত্ব চালিয়ে যাবে। বোর্ডের এই পদক্ষেপ দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় চুক্তির এই পুনর্গঠন ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যেখানে শীর্ষ গ্রেডের অধিকারী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং অবদানের ভিত্তিতে আর্থিক পুরস্কার নির্ধারিত হবে।



