বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ সন্ধ্যা ৭:১৫টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে অতীতের শাসনকালে করা ত্রুটিগুলো স্বীকার করে জাতিকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দায়িত্বে পুনরায় ভোটের মাধ্যমে ম্যান্ডেট চাইছেন, যা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপি যখন সরকারে ছিল, তখন কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুলের সম্ভাবনা স্বীকার করে তিনি জনগণের কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রকাশ করেন। অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দলটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হতে চায়, এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, যদি ভোটের মাধ্যমে দলকে আবার শাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে সরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো সময়মতো প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি মোকাবিলায় কঠোর নীতি গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান নতুন নির্বাচনী ম্যান্ডেটের জন্য জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতের অর্জনকে ভিত্তি করে এবং ভুল থেকে শিখে এখন দলটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভোটের আবেদন করেন।
ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি কিছু গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করার সতর্কতা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়কালে ধর্মকে মঞ্চে আনা হয়ে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুন্ন করতে পারে।
ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, বহু বিশিষ্ট উলামা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কিছু ব্যক্তি দলীয় স্বার্থে ধর্মকে বিকৃত করে সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই তিনি সকল বিশ্বাসীকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো ধরনের ধর্মীয় মিথ্যা তথ্যের প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আহ্বান জানান।
তারেক রহমান আরও জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দলের মূল লক্ষ্য।
এই ভাষণটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি কীভাবে ভোট সংগ্রহ করবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও শাসন কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলবে। দলটি এখনো স্পষ্টভাবে তার নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও, এই ভাষণটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতার সংকেত দেয়।
অবশেষে, তারেক রহমান দেশের সকল নাগরিককে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের পার্থক্য না রেখে একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়। তিনি ভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।



