শুক্রবার রাতের পরেই, দেশের সব মিডিয়া হাউসের ক্রীড়া সাংবাদিকরা সোমবার শের‑ই‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ওডোমো বাংলাদেশ টি২০ কাপের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিতি প্রত্যাখ্যান করে। এই পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সতর্কবার্তা, যা ফটোগ্রাফার তানভিন তামিমের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল।
বিষয়টি উদ্ভূত হয় যখন দ্য ডেইলি সান‑এর ফটোগ্রাফার তানভিন তামিম ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ছবিগুলোর জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে সরাসরি ইমেইল পায়। ইমেইলে তাকে ছবিগুলো প্রকাশের জন্য সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়।
সাধারণত, কোনো মিডিয়া কর্মীর কাজের ওপর প্রশ্ন উঠলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। তবে এই ক্ষেত্রে সরাসরি ফটোগ্রাফারকে ইমেইল পাঠানো, বোর্ডের প্রচলিত পদ্ধতির থেকে বিচ্যুতি সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়।
সেই সোমবার, বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের ক্রীড়া প্রতিবেদকরা শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়ামের প্রাঙ্গণে একত্রিত হন। তারা প্রথমে সতর্কবার্তার প্রেক্ষাপট ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত তা নির্ধারণের চেষ্টা করেন।
আলোচনার পর, সাংবাদিকরা মিডিয়া বক্সের শীর্ষে উঠে একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যার ওপর লেখা ছিল “জার্নালিজম অপরাধ নয়”। ব্যানারটি স্পষ্টভাবে বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি বিরোধিতা প্রকাশ করে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার আহ্বান জানায়।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে, সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া বিভাগকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত উত্তর না দিলে ফাইনাল ম্যাচ থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে, এমন একটি চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেন। তারা একই সঙ্গে বোর্ডকে লিখিতভাবে তাদের আপত্তি জানিয়ে দেন।
বিকাল ৬টার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর না পাওয়ায়, সাংবাদিকরা তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। তারা মিডিয়া বক্স থেকে বেরিয়ে এসে ফাইনাল ম্যাচের দর্শকসীমা থেকে নিজেকে বাদ নেন।
ফলস্বরূপ, ওডোমো বাংলাদেশ টি২০ কাপের ফাইনাল ম্যাচটি কোনো সাংবাদিকের উপস্থিতি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ম্যাচের খেলা স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে, তবে মিডিয়া কভারেজের অভাবের কারণে দর্শকদের কাছে তথ্যের প্রবাহ সীমিত থাকে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা ক্রীড়া সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রোটোকল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। সাংবাদিকরা ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্ট যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছেন।
এই প্রতিবাদমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে, সাংবাদিকরা প্রকাশ করেছেন যে তারা কোনো ধরনের দমন বা হুমকিকে সহ্য করবে না এবং সাংবাদিকতার স্বতন্ত্রতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।



