20 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিক নিরাপত্তা ও অবসর কল্যাণের প্রতিশ্রুতি

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিক নিরাপত্তা ও অবসর কল্যাণের প্রতিশ্রুতি

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা শহরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার পাঠের সময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন। ইশতেহারটি দেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলীয় নীতি নির্ধারণের মূল নথি হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিকদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠন করা হবে। এই বোর্ডের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য কল্যাণসেবা প্রদান করা হবে বলে দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের মামলায় দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত। দলটি উল্লেখ করে, এ ধরনের মামলায় দেরি না করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) পুনর্নিরীক্ষণ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা বাড়াতে একটি ‘বিশেষ সেল’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সেলটি আইনগত সহায়তা, হুমকি মোকাবেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবে বলে দলটি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দূর করে সমান বণ্টন নীতি অনুসরণ করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ আছে। এধরনের নীতি অনুসরণে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন আয় সমানভাবে ভাগ করা হবে এবং কোনো দলীয় পছন্দের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন বরাদ্দ করা হবে না।

বিএনপি একটি শক্তিশালী ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই কাঠামো গুজব, ভুয়া খবর এবং ঘৃণ্য বক্তব্যের প্রতিরোধে কার্যকর হবে, পাশাপাশি নাগরিকদের মিডিয়া সংক্রান্ত অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।

মিডিয়া অফিস ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো হামলা বা আগ্রাসন ঘটলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে দলটি জোর দিয়েছে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা রক্ষা করতে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণের কথা ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সরকারও মিডিয়া নিরাপত্তা ও ডিজিটাল আইন সংশোধনের কথা পূর্বে উল্লেখ করেছে, তবে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে ‘অধিক কার্যকর ও স্বচ্ছ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষের নীতি পার্থক্য নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশ্লেষকরা ইশতেহারের এই ধারাগুলোকে সাংবাদিক সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। যদি বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়, তবে এটি ভোটারদের মধ্যে মিডিয়া স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments