গোপালগঞ্জ সদর, ঢাকা-খুলনা হাইওয়ের দুমদিয়া বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি দুপুর ১২টার দিকে একটি ইজি বাইক ও বাসের মুখোমুখি ধাক্কা ঘটায় দুইজনের মৃত্যু এবং চারজনের গুরুতর আঘাত। ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ব্যবহার করা ব্যাটারি চালিত ইজি বাইক এবং ঢাকা থেকে খুলনা পথে চলমান হামিম পারিবাহনের বাসের মধ্যে সংঘটিত হয়।
মৃতদেহের পরিচয় দেওয়া হয়েছে জিকর সরদার, ৪০ বছর বয়সী, এবং হাসিব শেখ, ৩৮ বছর বয়সী, উভয়ই গোপালগঞ্জ সদর, শুক্তাইল চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। উভয়ই ইজি বাইকের যাত্রী ছিলেন এবং ধাক্কা লাগার মুহূর্তেই প্রাণ হারিয়ে ফেলেন।
ইজি বাইকটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছিল, যেখানে প্রার্থীর সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভ্রমণ করতেন। বাসটি হামিম পারিবাহনের, যা ঢাকা থেকে খুলনা পথে নিয়মিত সেবা প্রদান করে। দুটো যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজি বাইকটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে, ফলে যাত্রীদের ওপর তীব্র প্রভাব পড়ে।
ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ইনস্পেক্টর মোঃ মাসুদ খান ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, ধাক্কা দুমদিয়া বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে ঘটেছে এবং তা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের নজরে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘর্ষের সময় ট্রাফিক সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
মৃত্যুপ্রাপ্ত দুইজনের পাশাপাশি ইজি বাইকের চারজন যাত্রী গুরুতর আঘাত পেয়ে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের মতে, ধাক্কা ঘটার সময় উভয় যানবাহনের গতি উচ্চ ছিল এবং সঠিক সিগন্যাল না দেওয়ায় সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে অতিরিক্ত দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ের ট্রাফিক সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ ট্রাফিক পুনরায় চালু করে এবং গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এই সময়ে স্থানীয় বাস চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ইন্সপেক্টর মাসুদ খান জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে গতি, সিগন্যাল ও চালকের আচরণ বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
গোপালগঞ্জ পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত সব রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
এই ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা যায়।
গোপালগঞ্জে ঘটিত এই ট্র্যাফিক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে এবং নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। তদন্ত চলমান থাকায় আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



