শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের আমির, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি ব্যাপক ভাষণ উপস্থাপন করেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর দেওয়া সুযোগকে কাজে লাগাতে আহ্বান জানান এবং ভোটারদেরকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।
এই ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার উভয় চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, যা দেশের সর্বত্রের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছায়। নির্বাচনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি তার মূল অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে এই প্রচারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, পরিবর্তনের এই মুহূর্তটি আল্লাহর দয়া ও করুণা থেকে এসেছে এবং এটি ব্যবহার না করলে দেশের পুরনো রাজনৈতিক রীতিনীতি পুনরায় ফিরে আসবে। তিনি পুরনো পার্টি-রাজনীতির চক্র ভাঙার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা ও ইজ্জত রক্ষা পাবে। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, সমাজের সব স্তরে ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
দলটি যদি শাসন ক্ষমতা পায়, তবে শফিকুর রহমানের মতে প্রথম কাজ হবে ফজরের নামাজের পরই পরিকল্পিত নীতি বাস্তবায়ন শুরু করা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার গঠনের পর তৎক্ষণাৎ ধর্মীয় সময়সূচি অনুসরণ করে নীতি প্রয়োগের সূচনা করা হবে, যা জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনবে।
যুব ভোটারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বিশেষভাবে জোর দেন, বলছেন দেশের ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজের পাইলট ও ক্যাপ্টেন হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্ম। শফিকুর রহমানের মতে, যুবকেন্দ্রিক নীতি অনুসরণ করে তারা সমাজের ‘ককপিটে’ বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে, আর সাধারণ মানুষ প্যাসেঞ্জার সিটে বসে নিরাপদ যাত্রা উপভোগ করবে। তিনি তরুণদেরকে প্রস্তুত হতে, দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব নিতে এবং নিজেদের হাতে দেশের গঠন-নির্মাণের সুযোগ নিতে আহ্বান জানান।
ভাষণের সূচনায় তিনি স্পষ্ট করেন, এই বক্তব্যটি প্রচলিত রাজনৈতিক র্যালি নয়, বরং হৃদয়ের গভীরতা থেকে উঠে আসা একটি আহ্বান, যা জেন-জি, যুবক এবং পুরো প্রজন্মের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি সকল ধর্মের ভাইবোনদের জন্য সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, জুলাই মাসে শহীদদের এবং মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের ত্যাগকে স্মরণীয় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনগণ এখন পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছে, তবে কিছু গোষ্ঠী এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পরিবর্তন ঘটলে তাদের স্বার্থহানি হবে, ফলে তারা তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ করতে চায় এবং মানুষের অধিকার হরণে বাধা দিতে চায়। এই বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস না পেতে পারে।
এ ধরনের প্রতিরোধের উদাহরণ হিসেবে তিনি আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদী এবং তাদের সহযোদ্ধাদের উল্লেখ করেন, যারা স্বাধীনতার সংগ্রামে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এই বীরদের রক্তের শপথের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সাহসী হতে এবং পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করা হবে, এটাই তার বার্তা।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, শফিকুর রহমানের এই আহ্বান জামায়াত-এ-ইসলামির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এই ভাষণটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই ধরনের জনমুখী প্রচারণা দলটির পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।



