গাজীপুরের তঙ্গি বাজারের সেনা কল্যাণ গার্মেন্টস ভবনের পাশে অবস্থিত একটি ক্লাব রুমে সন্ধ্যা চারটায় গ্যাস বেলুন ফাটার ফলে অন্তত অষ্টাদশজন বিএনপি কর্মী ও সমর্থকের দেহে পোড়ার ক্ষত দেখা দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে, বেলুনের বিস্ফোরণ দ্রুত অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয় এবং ঘরে থাকা সবাইকে তীব্র জ্বালার শিকার করে। আহতদের প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে স্থানান্তর করা হয়।
সাক্ষীদের বর্ণনা অনুসারে, ঘটনাস্থলটি সেনা কল্যাণ মার্কেটের একটি ক্লাব রুম, যা তঙ্গি বাজারের চেরাগ আলি এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া র্যালির প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। র্যালির আয়োজন গাজীপুর-২ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি প্রার্থী এম. মানজুরুল করিম রোনির সমর্থকদের সমন্বয়ে করা হয়েছিল এবং সন্ধ্যা বেলা সেখানে সমাবেশের পরিকল্পনা ছিল।
র্যালির পূর্বে কয়েকজন নেতা ও কর্মী ক্লাব রুমে একত্রিত হন এবং পূর্বে প্রস্তুত করা গ্যাস বেলুনগুলো সংগ্রহের জন্য ঘরে প্রবেশ করেন। বেলুনগুলো হঠাৎ ফেটে যায়, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভিতরে থাকা সবাইকে জ্বালার শিকার করে। এক সমর্থক জানান, বেলুনের বিস্ফোরণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঘরে উপস্থিত বেশ কয়েকজনের দেহে তীব্র পোড়া দেখা যায়।
আহতদের প্রথমে নিকটস্থ কোনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এবং আহতদের অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে, পরে তাঁকে ঢাকা শহরের বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, অধিকাংশ রোগীর হাতে, মুখে এবং দেহের বিভিন্ন অংশে তীব্র পোড়া চিহ্ন দেখা গেছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে অন্তত অষ্টাদশজন রোগী ভর্তি হয় এবং তাদের তীব্র জ্বালার চিকিৎসা শুরু করা হয়।
বিএনপি কর্মী ও সমর্থকরা ঘটনাটিকে ‘অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে, র্যালির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং গ্যাস বেলুনের ব্যবহারে যথাযথ সতর্কতা না নেওয়াকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, র্যালির আয়োজনের জন্য গ্যাস বেলুনের প্রস্তুতি এবং ব্যবহার সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি, যা এই দুঃখজনক ঘটনার দিকে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পাঠানো হয় এবং অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গাঢ় জ্বালার কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। আহতদের পরিবারকে হাসপাতালে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, তঙ্গি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা র্যালি ও সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিএনপি নেতারা র্যালি বাতিলের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তঙ্গিতে ঘটিত এই দুর্ঘটনা স্থানীয় স্তরে বিএনপি সমর্থকদের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং র্যালি আয়োজনের পদ্ধতি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনরায় পর্যালোচনা করা জরুরি। এছাড়া, এই ঘটনার ফলে পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তঙ্গি বাজারের ক্লাব রুমে গ্যাস বেলুনের বিস্ফোরণ এবং ensuing অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জন বিএনপি কর্মী ও সমর্থকের দেহে তীব্র পোড়া চিহ্ন দেখা গেছে, যাঁদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে।



