20 C
Dhaka
Tuesday, February 10, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাধর্ম উপদেষ্টা ১৩,০০০ ধর্মীয় বই কারাগারে হস্তান্তর, পুনর্বাসন উদ্যোগে সমর্থন

ধর্ম উপদেষ্টা ১৩,০০০ ধর্মীয় বই কারাগারে হস্তান্তর, পুনর্বাসন উদ্যোগে সমর্থন

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন আজ বিকেলে ঢাকা শহরের স্বরাষ্ট্র সচিবালয়ে ১৩,০০০ ধর্মীয় ও নৈতিক বই কারাগারগুলোতে দান করার আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করেন। হস্তান্তরের সময় তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে বন্দিদের পুনর্বাসন সম্ভব এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

বইগুলো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) তত্ত্বাবধানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন উপস্থিত ছিলেন, যা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সমর্থনকে নির্দেশ করে।

ধর্ম উপদেষ্টা হোসেনের মতে, বন্দিদের নৈতিক ও ধর্মীয় উন্নয়নের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য পাঠ্যসামগ্রী সরবরাহ করা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক নয়, বরং সামাজিক পুনঃসংহতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে, বইগুলোর নির্বাচন বৈচিত্র্যময় এবং বহু ধর্মের গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই সংস্থা এখন পর্যন্ত যে কাজগুলো সম্পন্ন করেছে, তার মধ্যে ধর্মীয় গ্রন্থের বিতরণ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং পাঠ্যক্রমের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।

হস্তান্তরিত বইগুলোর তালিকায় কোরআন, হাদিস, বেদ, ভগবদ গীতা, উপনিষদ, ত্রিপিটক, বাইবেল এবং ইনজিল শরীফসহ বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ রয়েছে। পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে রচিত আধুনিক বইগুলোও অন্তর্ভুক্ত, যা বন্দিদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ড. খালিদ হোসেন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ধর্মীয় ও নৈতিক গ্রন্থের সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নতুন প্রকাশনা ও পুনঃপ্রিন্টের মাধ্যমে বইয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে বন্দিদের চাহিদা মেটানো হবে এবং পাঠের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

বইয়ের পাশাপাশি, কারাগারগুলোতে শীঘ্রই জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ এবং অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব উপকরণ ধর্মীয় অনুশীলনকে সহজতর করবে এবং বন্দিদের দৈনন্দিন জীবনে আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

বই ও সামগ্রীর দান বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমর্থনেও সম্ভব হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ বহু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিনামূল্যে এই গ্রন্থগুলো সরবরাহ করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে দেশের কারাগার ব্যবস্থার সংস্কার ও মানবিক দিকের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, বন্দিদের শিক্ষা ও সংস্কার প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করা সমাজের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য অপরিহার্য।

শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে দেখা যায়, এই ধরনের পাঠ্যসামগ্রী বন্দিদের বৌদ্ধিক বিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে তারা আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে পারে, যা পুনরায় অপরাধের সম্ভাবনা কমায়।

প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কারাগারগুলোতে পাঠক ক্লাব গঠন, গ্রুপ ডিসকাশন এবং বই-ভিত্তিক কর্মশালা চালু করা যেতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে জ্ঞান ভাগাভাগি করতে পারবে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

আপনার যদি কোনো কারাগার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ থাকে, তবে এই ধরনের দানমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করুন। ছোটখাটো বই দান বা স্বেচ্ছাসেবী পাঠশালা পরিচালনা করে আপনি সমাজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবদান রাখতে পারেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments