যুক্তরাজ্যে এপস্টেইন কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গদি ঝুঁকিতে। পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর বিরোধী ও শাসকদল উভয়ই পদত্যাগের দাবি জানিয়ে থাকে।
ম্যান্ডেলসনকে ডিসেম্বর ২০২৪-এ যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়, তবে এপস্টেইন ফাইলে তার নাম প্রকাশের পরই সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ তাকে ঐ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এই নিয়োগের দায়িত্ব নিয়ে চিফ অব স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইন সম্প্রতি পদত্যাগ করেন।
ম্যাকসুইনের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে স্টারমার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের পুরো দায়িত্ব তার ওপর তুলে ধরেন। তিনি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে শ্রম দলের বিশাল জয়ের পেছনে ম্যাকসুইনের অবদান স্বীকার করেন।
বিরোধী দলগুলো এবং শাসকদল শ্রম দল উভয়ই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে। শ্রম দলের সংসদ সদস্যরা স্টারমার এখনও পদত্যাগ না করলে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কিছু কর্মচারী ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সময় বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে ম্যান্ডেলসন দায়িত্ব পালন করতেন। সেই সময়ে তিনি এপস্টেইনের কাছে বেশ কিছু সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, কেন এমন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর আগে যথাযথ তদন্ত করা হয়নি।
ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের পেছনে কী প্রক্রিয়া ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শাসকদল ও শ্রম দলের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যেখানে স্টারমারকে দায়িত্বশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ম্যাকসুইনের পদত্যাগের পর স্টারমার তার অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন, ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের ফলে সরকারকে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে শ্রম দলের জয় নিশ্চিত করতে যে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। স্টারমারের গদি ঝুঁকিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাসকদল ও শ্রম দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই তীব্রতর হতে পারে।
শ্রম দলের নেতারা স্টারমারকে দ্রুত পদত্যাগ না করলে সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন।
ব্রিটিশ সরকার এখন ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগের পেছনের প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে সরকারী নিয়োগের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এপস্টেইন কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হলে স্টারমারের সরকারকে আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। শাসকদল ও শ্রম দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে সরকারকে বদলানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, পিটার ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ফলে সৃষ্ট বিতর্ক, মর্গ্যান ম্যাকসুইনের পদত্যাগ এবং শ্রম দলের পদত্যাগের দাবি একত্রে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



