ওরেগনের একটি শিলা গুহায় প্রায় ১২,৪০০ বছর পুরনো দুইটি ছোট এল্কের চামড়ার টুকরা সেলাই করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই টুকরাগুলোকে এখন পর্যন্ত সনাক্ত সর্বপ্রাচীন সেলাই করা বস্তু এবং সম্ভবত পৃথিবীর প্রাচীনতম পোশাকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
টুকরাগুলো কয়েক বর্গ সেন্টিমিটারের মাত্রা, তবে একটি মোটা দড়ি দিয়ে দুটো চামড়া একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দড়ি ও চামড়ার সংযোগস্থলে স্পষ্ট সেলাইয়ের চিহ্ন দেখা যায়, যা সরাসরি সেলাইয়ের প্রমাণ দেয়।
রেডিওকার্বন বিশ্লেষণের মাধ্যমে টুকরাগুলোকে শেষ হিমযুগের শেষের দিকে নির্ধারিত করা হয়েছে। গবেষকরা এই ফলাফলকে ভিত্তি করে বলেন যে, এই সময়ে গুহার আদিবাসী বাসিন্দারা চামড়া ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করছিলেন।
চামড়ার পাশাপাশি গুহা থেকে পাথরের সরঞ্জাম ও হাড়ের সূচও উদ্ধার করা হয়েছে। এই সরঞ্জামগুলোকে পোশাক সেলাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে অনুমান করা হয়, যা প্রাচীন সময়ের বস্ত্রশিল্পের সূচক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চামড়ার টুকরাগুলো কোনো গরম ও সুরক্ষার জন্য তৈরি পোশাকের অংশ হতে পারে। হিমযুগের শীতল পরিবেশে এমন গরমের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য, তাই চামড়া ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি ছিল।
এই টুকরাগুলো ১৯৫০-এর দশকে কুগার মাউন্টেন গুহা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা ওরেগনের উচ্চ মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়ে গিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুহা থেকে প্রাপ্ত ৫৪টি অন্যান্য বস্তুও গবেষণার আওতায় এসেছে।
অন্যান্য বস্তুগুলোর মধ্যে এল্ক, বাইনসন, খরগোশ, শিয়াল ইত্যাদি প্রাণীর চামড়ার টুকরা এবং চামড়া ও উদ্ভিদ তন্তু দিয়ে তৈরি দড়ি অন্তর্ভুক্ত। দড়িগুলোকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়, যেমন ব্যাগ, ঝুড়ি বা চাটাই তৈরি।
একটি মোটা তন্তু গুচ্ছকে প্রাচীন বুননের প্রাথমিক রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সম্ভবত কোনো ব্যাগ, ঝুড়ি বা চাটাই তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ধরনের প্রাথমিক বুনন প্রাচীন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বহুমুখী ব্যবহার নির্দেশ করে।
জীববৈজ্ঞানিক উপকরণ সাধারণত সময়ের সঙ্গে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তবে এই অঞ্চলের অতিবিশেষ শুষ্ক বাতাস এই টুকরাগুলোর দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শুষ্ক পরিবেশের কারণে চামড়া ও তন্তু বহু হাজার বছর ধরে অক্ষত রয়ে গেছে।
দ্রষ্টব্য, পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো প্যান্টের বয়স প্রায় ৩,০০০ বছর, যা একই ধরনের মরুভূমি অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছিল। এই তুলনা দেখায় যে শুষ্ক পরিবেশে প্রাচীন বস্ত্রের সংরক্ষণ সম্ভাবনা বেশি।
এই আবিষ্কার প্রাচীন সময়ের পোশাক তৈরির প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই প্রাচীন সেলাই প্রযুক্তির বিস্তৃতি ও বিকাশের পথ উন্মোচন করতে পারে। আপনি কি মনে করেন, এমন প্রাচীন পোশাকের গবেষণা আমাদের আধুনিক বস্ত্রশিল্পে কী প্রভাব ফেলতে পারে?



