ইরান তেহরানে একটি ব্যানার ও মানচিত্র প্রদর্শন করে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সামরিক হুমকি জানিয়েছে। ব্যানারে “আপনারা শুরু করলে শেষটা আমরা করব” লেখা, এবং মানচিত্রে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও সামরিক কেন্দ্রগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকাশনা মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ব্যানারটি তেহরানের কেন্দ্রীয় স্কোয়ারে, ফিলিস্তিন স্কয়ারে স্থাপন করা হয়েছে।
মানচিত্রে টেল আবিব ও বেন‑গুরিয়ন বিমানবন্দর, ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর কিরিয়াত, গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কেন্দ্র এবং হার্জলিয়া এলাকার প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলো চিহ্নিত। টেল আবিব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রধান গেটওয়ে, আর বেন‑গুরিয়ন বিমানবন্দর ইসরাইলের প্রধান সামরিক বেস হিসেবে কাজ করে। এসব স্থান ইসরাইলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে নির্বাচিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন। মানচিত্রটি ফিলিস্তিন স্কয়ারে প্রদর্শিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও সমর্থনের প্রতি ইরানের সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের এই পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে আসে। তেহরানের সরকার বারবার জোর দিয়ে বলছে যে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো উসকানি বা আক্রমণ হলে তা যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। ব্যানার ও মানচিত্রকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধের একটি রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরানের সরকার এই ধরনের দৃশ্যমান হুমকিকে জাতীয় ঐক্য জোরদার করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইসরাইলের সরকার এখনও এই নির্দিষ্ট মানচিত্র সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। উভয় দেশের নেতাদের আলোচনায় ইরানের নতুন হুমকি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রধান বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আপডেট করেছে।
একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ ও সরঞ্জামের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার গ্লাইডার জিএলএস ডি-১ এবং ডেস্ট্রয়ার জিএলএস ডি-২ সাম্প্রতিক সপ্তাহে গালফে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম স্থাপনকে ইরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ধরণের প্রকাশ্য হুমকি কূটনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়াতে পারে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্বাভাসকে পরিবর্তন করতে পারে।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের এই পদক্ষেপকে মানচিত্রের মাধ্যমে দৃশ্যমান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পাশাপাশি ইরানের প্রতিক্রিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে দ্বিপাক্ষিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক চ্যানেল সক্রিয় রাখা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বৈঠক, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ঘটনাগুলি পরবর্তী সপ্তাহে কীভাবে বিকশিত হয় তা নির্ধারণ করবে যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে শীতল হবে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়গুলোতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রকাশ পাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোও ইরানের এই পদক্ষেপকে নজরে রাখছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরানের মানচিত্রকে অস্থিরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তাবও আলোচিত হবে। এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।



