ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি – দেশের সর্বজনীন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকায় ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের পর প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের কাছে আবেদন করতে শুরু করেছে, আর নাগরিকরা নতুন সরকারে কী আশা রাখে তা তালিকাভুক্ত করছে। এই প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিচ্ছে।
মহানগরীর রাস্তার কোণে ঐতিহ্যবাহী বাঁশি বেজে শোনানো এক শিল্পী, মনির হোসেন, তার জীবনের মূল চাহিদা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মী যেন সমাজের অন্য কোনো পেশার সমান সম্মান ও জীবিকা পায়, তা তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অপরিহার্য মনে করেন। তার এই আবেদন দেশের সাংস্কৃতিক নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আগ্রহী মহবুব হাসান, নতুন সরকারের কাছে ঐতিহাসিক স্থান রক্ষার জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাগেরহাটের শাট গম্বুজ মসজিদ ও জাইনুল আবেদিনের ‘স্ট্রাগল’ মত নিদর্শনগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মূল চাবিকাঠি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, পেমেন্ট ব্যালেন্সের চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবিকার খরচ হ্রাস পাবে।
সরকারের নতুন নোটে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পকর্ম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। শাট গম্বুজ মসজিদ এবং জাইনুল আবেদিনের চিত্র নোটে প্রকাশিত হওয়া দেশের পরিচয়কে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নীতি সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সংযোগকে দৃঢ় করবে।
উন্নয়ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ জনিফার কামাল, যিনি ব্র্যাক ও সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো শীর্ষ এনজিওতে কাজ করেছেন, নারী ক্ষমতায়নের স্পষ্ট পরিসংখ্যানের দাবি তুলেছেন। তিনি চান সরকার নারী উন্নয়নে অর্জিত অগ্রগতি সংখ্যায় প্রকাশ করে, যাতে বাস্তবিক ফলাফল দেখা যায়। এছাড়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, ঋণ ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘হোয়াই নেশনস ফেল’ গ্রন্থের লেখকরা উল্লেখ করেছেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা তার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে শাসনক্ষমতা ও নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রার্থীদের নতুন আবেদন পদ্ধতি এবং নাগরিকদের স্পষ্ট চাহিদা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটারদের তালিকাভুক্ত প্রত্যাশা সরকারকে নির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণে বাধ্য করবে। ফলে নির্বাচনের পরপরই নীতি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে ভোটারদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংস্কৃতি ও পর্যটন ক্ষেত্রে অব্যাহত অগ্রগতি না হলে জনমত পরিবর্তন হতে পারে। তাই সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
নাগরিকদের দাবিগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সামাজিক সমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় সম্ভব হবে। শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মীর জন্য ন্যায্য বেতন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নারী ক্ষমতায়নের স্পষ্ট লক্ষ্যগুলোকে নীতি ভিত্তিক করা দরকার।
এইসব প্রত্যাশা ও দাবি নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকার যদি এই চাহিদাগুলোকে বাস্তব নীতিতে রূপান্তরিত করে, তবে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা উভয়ই মজবুত হবে।
অবশেষে, নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে কোন দল বা প্রার্থী এই নাগরিকদের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে সরকারী নীতি ও জনমতের সমন্বয় দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।



