20 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মন্তব্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে অপশাসন শেষের সংকেত

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মন্তব্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে অপশাসন শেষের সংকেত

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে গেট‑টুগেদার অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে যাবে এবং আর কোনো অপশাসন ফিরে আসবে না। একই দিনে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং‑এ তিনি এই বক্তব্য পুনরায় তুলে ধরেন, যেখানে তিনি অতীতের নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

ব্রিফিং‑এ প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মাধ্যমে জানানো হয়, পূর্বের নির্বাচনগুলো প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ‘ভুয়া নির্বাচন’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে এইবারের নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। এখনো দুই দিন বাকি থাকলেও প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, দেশ লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর।

ইউনূস উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সুসংহত করবে। ফলে ভবিষ্যতে তারা দেশের নীতি‑নির্ধারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন‑৩৩৩’ চালু করা হয়েছে, যা ভোটারদের তৎক্ষণাৎ সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া প্রায় ২৫,৭০০টি বডি‑ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইউনূসের মতে, এসব ব্যবস্থা পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণও বাংলাদেশে উপস্থিত হতে চলেছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা পুনরুদ্ধারকে নির্দেশ করে। ইউনূস উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনকালে অনুষ্ঠিত তিনটি পূর্বের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং সেই সময়ে কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি এবং প্রচারণা শালীনভাবে চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে, এবং নেতারা যেখানে প্রয়োজন সেখানে সমঝোতা বজায় রাখছে।

ব্রিফিং‑এ আরও জানানো হয়, গেট‑টুগেদার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সচিব ও কর্মকর্তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তারা ভোটার তালিকা আপডেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটার সচেতনতায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইউনূসের মতে, এই গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে অপশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধের পাশাপাশি, দেশের শাসনব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, সরকার নির্বাচনের আগে ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এতে টেলিভিশন, রেডিও ও সামাজিক মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মন্তব্যের পর, কিছু রাজনৈতিক দলও তাদের প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, সরকার ও নির্বাচনী কমিশন এই গণভোটকে দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে।

এইসব প্রস্তুতি ও ঘোষণার পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন যে, গণভোটের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল সরকার গঠনে সহায়তা করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments