মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, সোমবার বিকাল বিটিভিতে টেলিভিশন সম্প্রচারে রিকশা প্রতীকে ভোট এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনী লড়াই কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
হক জোর দিয়ে বলেন, সরকার বদলালেই জনগণের মুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে না; লুট‑পাট ও দমন‑নির্ভর সিস্টেমকে ভেঙে না দিলে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, ইসলামী সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নকে আজকের সংগ্রামের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিটিভিতে তার বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও ইসলামী নীতি ভিত্তিক শাসনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। হক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, শাপলা চত্বরের নিহত এবং ২০২৪ সালের জুলাই‑আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের আত্মত্যাগকে কেবল আনুষ্ঠানিক স্মরণে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক দায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে হক বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের প্রচারকে ঢেকে রাখে একটি দমনমূলক ও দুর্নীতিপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তিনি সমস্যার মূলকে একক সরকার নয়, বরং লুটের ভিত্তিতে গড়া অনিয়মপ্রসূত সিস্টেম হিসেবে চিহ্নিত করেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গৃহীত ‘জুলাই সনদ’কে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তব ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও সনদের সব বিষয়ের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত নন, তবে বর্তমান সংকটে এর চেয়ে কার্যকর কোনো বিকল্প না থাকায়, আসন্ন গণভোটে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান করেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকে হক ‘এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি’ কর্মসূচি প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হওয়া উচিত তরুণ উদ্যোক্তা ও শ্রমিক শ্রেণি।
কৃষি ক্ষেত্রে তিনি মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটকে ভেঙে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেন। পণ্য ও সেবার জন্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ, কৃষি উপকরণের ওপর ভর্তুকি এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো এই দাবিগুলোর প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
মামুনুল হকের এই আহ্বান ও নীতি প্রস্তাবনা, রিকশা ভোট এবং গণভোটের ফলাফল নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গে, দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।



