দূর্দান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের পর সুরায়া আখতার জাহানকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সরকার মোহাম্মদ আজাজের এক বছরের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার পরিবর্তে অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সুরায়া আখতার জাহানকে গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত করে। গেজেট নোটিফিকেশনটি স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যৌথ সচিব মাহবুবা আইরিনের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়।
সুরায়া আখতার জাহান স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করছেন এবং তার নতুন দায়িত্বের সূচনা ১১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তৎপরতা আনবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আজাজকে গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি পূর্ণকালীন ভিত্তিতে এক বছরের মেয়াদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আজাজকে অপসারণ করা হয়নি, তবে মেয়াদ শেষের পর তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। এই বিবৃতি সরকারী প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়।
সুরায়া আখতার জাহান ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং তৎক্ষণাৎ কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
আজাজ একই সঙ্গে নদী ও ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) নভেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে আজাজকে ২৯ জানুয়ারি কমিশনের সদর দফতরে প্রশ্নোত্তরের জন্য ডাকা হয়।
তবে আজাজ নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হওয়ায় তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের পিটিশনের ভিত্তিতে তার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এই পদক্ষেপগুলোকে কেন্দ্র করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শহরের পরিষেবা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের ফলাফলও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



