ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় চার দিনের সরকারি সফর করবেন। বন্ডি সমুদ্র সৈকতে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক হামলার পর স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন জানাতে এই সফর পরিকল্পিত হয়েছে। সফরের সময় ইজরায়েলি সরকারের গাজা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সফরের সূচনা ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়, যখন দেশজুড়ে প্রো-ফিলিস্তিন গোষ্ঠীসমূহ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে।
সিডনির কেন্দ্রীয় চত্বরে হাজারো অংশগ্রহণকারী একত্রিত হয়ে বক্তৃতা শোনে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান শোনায়। প্রতিবাদকারীরা ইজরায়েলি সরকারের গাজায় চালিয়ে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা করে এবং অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বকে ফিলিস্তিনীয় জনগণের কষ্ট স্বীকার করতে আহ্বান জানায়। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তদারকি দেখা যায়।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েলি সরকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসা ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের কারণ হয়েছে। ফলে হার্জোগের সফরকে অনেকেই ইজরায়েলি সরকারের নীতি সমর্থনের চিহ্ন হিসেবে দেখছে।
সিডনির ৩০ বছর বয়সী প্রতিবাদকারী জ্যাকসন এলিয়ট উল্লেখ করেন, বন্ডি হামলা ভয়াবহ ছিল, তবে অস্ট্রেলিয়ান সরকার থেকে ফিলিস্তিনীয় জনগণ ও গাজার বাসিন্দাদের প্রতি কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, হার্জোগ দখলদারিত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে সফরের মূল বিষয়কে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কেন্দ্রীভূত করেছেন। তার বক্তব্যে ইজরায়েলি সরকারের দায়িত্ব স্বীকার না করার অভিযোগ উঠে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ শিকাগো শহরে ব্যাপক মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়। সিডনিতে একাধিক হেলিকপ্টার টহল চালু করা হয়েছে এবং কিছু অফিসার ঘোড়ায় চড়ে গশ্বর পর্যবেক্ষণ করছেন। মোট প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য শহরজুড়ে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।
সিডনির পাশাপাশি মেলবোর্ন ও পার্থের মতো বড় শহরেও সমান মাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোকাবিলায় অতিরিক্ত রিজার্ভ ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো মূলত সফরের সময় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
হার্জোগের সফর অস্ট্রেলিয়া-ইজরায়েলি সরকারের সম্পর্কের উপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারী কর্মকর্তারা সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে গাজা সংক্রান্ত মানবিক উদ্বেগও উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের বিষয়বস্তুতে গাজা নীতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট হার্জোগের অস্ট্রেলিয়া সফর চারটি প্রধান শহরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তিনি ইজরায়েলি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন এবং অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো আলোচনা করবেন। সফরের শেষে তিনি স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমর্থন জানাবেন। এই সফর অস্ট্রেলিয়া-ইজরায়েলি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



