22 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতীয় নাগরিক দল মুখপাত্র শোকজের পর অফিসার উইথড্রের অভিযোগ করেন

জাতীয় নাগরিক দল মুখপাত্র শোকজের পর অফিসার উইথড্রের অভিযোগ করেন

জাতীয় নাগরিক দল (JNP) এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোকজের পর নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হঠাৎ পদত্যাগের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু আসনে নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীকে শোকজ করা হলে সংশ্লিষ্ট অফিসার পরের দিনই পদত্যাগের নোটিশ পেয়ে চলে যান।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১১-দলীয় জোটের নেতারা একই দিনে বিকেলে নির্বাচন কমিশনে সমাবেশ করেন। সভায় জাতীয় নাগরিক দল, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং অন্যান্য দশটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সকল দলই নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।

আসিফ মাহমুদ আরও জানান, দলীয় পর্যবেক্ষণে তিনি ও তার সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ, জনপ্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এছাড়া, এই কর্মকর্তারা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ভোটের ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাতীয় নাগরিক দল ইতিমধ্যে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে। আসিফ মাহমুদ জানান, কিছু নির্দিষ্ট কর্মকর্তার পদচ্যুতি ও পরিবর্তনের প্রস্তাব ইতিমধ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের কোনো সাড়া না পাওয়ায় দলটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ভোটকেন্দ্রের চারশো গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সারপ্রাইজ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন অপ্রত্যাশিত নিয়মাবলী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু কার্যক্রমকে প্রভাবিত বলে মনে করেন।

জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও একই সভায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি খুলনার ডিআইজি, নাটোর ও শরীয়তপুরের এসপি এবং অন্যান্য এলাকায় পুলিশের হস্তক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নয়, নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এধরনের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। জাতীয় নাগরিক দল ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছেন। যদি অভিযোগগুলো যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলার দায়িত্বও দেখা দিতে পারে।

অধিকন্তু, ভোটারদের উপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ও ফোন নিষেধাজ্ঞার অপ্রত্যাশিত প্রয়োগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটার সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে পারে।

সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে, বিশেষ করে অভিযোগকৃত কর্মকর্তাদের পদচ্যুতি ও পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই বিষয়গুলো নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য সমন্বিত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খোঁজা জরুরি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments