কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে শনিবার সকাল আটটায় একসাথে পড়াশোনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনজন সপ্তম শ্রেণির বন্ধুরা মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা ঘটায়। দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে রওনা হওয়া এই তরুণরা হাজীপাড়া এলাকায় গতি হারিয়ে পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। ফলে সাইফ হোসেন, রহমত উল্লাহ ও সাহাবী হোসেন, প্রত্যেকের বয়স চৌদ্দ বছর, গুরুতর আঘাত পায়।
দুইজন, রহমত উল্লাহ (হেকমত উল্লাহর ছেলে) ও সাহাবী হোসেন (আমিনুল ইসলামের ছেলে), দুর্ঘটনার মুহূর্তে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পরই মৃত ঘোষণা করা হয়। সাইফ হোসেন (জিয়ার আলীর ছেলে) প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত স্নায়ু চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সাইফের অবস্থা গুরুতর থাকায়, রোববার রাতের দিকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার সময় তিনজনই একসাথে একটি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর, দুইজনের মৃত্যু এবং তৃতীয়ের গুরুতর আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
দৌলতপুর থানা থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালু হয়েছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শোক প্রকাশের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
মৃত্যুর পরপরই, শনিবার বিকেলে রহমত ও সাহাবীর দাফন করা হয়। সোমবার সকাল প্রায় একটায় সাইফের শেষ দাফন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তার দুই বন্ধুর কবরের পাশে সম্পন্ন হয়। তিনজনই একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়ায়, পুরো গ্রাম শোকের ছায়ায় ঢাকা পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, “আমাদের বাড়ির পাশেই এই তিন বন্ধুর বাড়ি ছিল, তারা সবসময় একসাথে পড়াশোনা ও খেলাধুলা করত। এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের গ্রামে আগে কখনো ঘটেনি। পরিবারগুলো এখন গভীর শোকের মধ্যে।” তার মন্তব্যে গ্রামবাসীর সমবেদনা ও দুঃখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দৌলতপুরে এই অকাল মৃত্যুর ফলে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহনের জন্য গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন, সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংরক্ষণ ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যাতে আইনি দায়িত্ব নির্ধারণে কোনো দিক থেকে ত্রুটি না থাকে।
এই দুর্ঘটনা কুষ্টিয়া জেলায় শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা উত্থাপন করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



