20 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞাননাসা নতুন উইং নকশা দিয়ে বিমান জ্বালানি খরচ কমাতে সক্ষম

নাসা নতুন উইং নকশা দিয়ে বিমান জ্বালানি খরচ কমাতে সক্ষম

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সম্প্রতি একটি উন্নত উইং নকশা প্রকাশ করেছে, যা বিমান চলাচলের সময় জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এই প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ গতির বাণিজ্যিক জেটের জন্যও প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন নকশার নাম “ক্রসফ্লো অ্যাটেনুয়েটেড ন্যাচারাল ল্যামিনার ফ্লো” (CTNAFF), যা বায়ুপ্রবাহের স্বাভাবিক স্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে ঘর্ষণ ও টার্বুলেন্স কমায়। ল্যামিনার ফ্লো বজায় রাখার মাধ্যমে পাখার পৃষ্ঠে উৎপন্ন প্রতিরোধ হ্রাস পায়, ফলে ইঞ্জিনকে কম শক্তি ব্যবহার করতে হয়।

পরীক্ষার সময় একটি গবেষণা প্লেনের নিচে ৩ ফুট উচ্চতার মডেলটি সংযুক্ত করা হয় এবং বাস্তব বাতাসের প্রবাহে এর কর্মক্ষমতা মাপা হয়। ফলস্বরূপ, বিমানটি রানওয়ে ছাড়ার আগে ঘণ্টায় প্রায় ২৩১.৭৫ কিলোমিটার গতি অর্জন করতে সক্ষম হয়, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ঘর্ষণ নির্দেশ করে। এই পরীক্ষায় পূর্ণ-আকারের নতুন বিমান তৈরি না করেও প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।

CTNAFF প্রযুক্তি পাখার উপরের পাতলা বায়ু স্তরকে স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করে, ফলে বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা কমে এবং ড্র্যাগ হ্রাস পায়। ইঞ্জিনের কাজের চাপ হ্রাস পেলে জ্বালানির ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে, যা অপারেটরদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসে।

বড় বাণিজ্যিক জেট, যেমন বোয়িং ৭৭৭, এই নকশা গ্রহণ করলে বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় দশ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে গবেষকরা অনুমান করছেন। এই শতাংশের ভিত্তিতে বিশাল পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় এবং দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা দেখা যায়।

জ্বালানি সাশ্রয় কেবল আর্থিক দিকেই নয়, পরিবেশগত দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কম জ্বালানি ব্যবহার মানে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমে, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। নাসা কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিমান শিল্পের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে এই নকশা সুপারসনিক বা হাইপারসনিক বিমানেও প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ গতির যাত্রায় ড্র্যাগ ও টার্বুলেন্সের প্রভাব বেশি হওয়ায়, ল্যামিনার ফ্লো বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাসা এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ উচ্চ-গতির বিমানচালনার একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে।

বর্তমানে নাসা প্রধানত বড় বাণিজ্যিক বিমানগুলোর জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে এই পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। পূর্ণ-আকারের বিমান নির্মাণের পরিবর্তে মডেল পরীক্ষা এবং সিমুলেশন ব্যবহার করে দ্রুত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

পাঠকরা যদি বিমান ভ্রমণের সময় পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন যাত্রাকে আরও টেকসই করে তুলতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা করা মূল্যবান। আপনার মতামত কী? ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনকে কীভাবে সমর্থন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments