শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্য উপদেষ্টা ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাপান‑বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে রমজান মাসের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী রমজান গত রমজানের তুলনায় সব দিক থেকে স্বস্তিদায়ক হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি রমজান মাসে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নতুন সরকারের বাজার তদারকি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং সঠিকভাবে মোকাবেলা করা দরকার।
চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘটের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলা হয় যে, ধর্মঘটটি ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে পোর্টে পণ্য প্রবাহ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং রমজান পূর্বে প্রত্যাশিত সরবরাহের ঘাটতি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের ফলাফল ইনশাআল্লাহ স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হবে এবং দ্রুতই সরকার গঠন হবে বলে উপদেষ্টা আশাবাদ প্রকাশ করেন। নতুন সরকার গঠনের পর বাজার তদারকি, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আমদানি পরিমাণের সঙ্গে স্থানীয় জাহাজশিল্পের সক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে আমদানি করা পণ্যের জন্য পর্যাপ্ত জাহাজ ও গুদাম সুবিধা না থাকায় কিছু জাহাজ দীর্ঘ সময়ের জন্য নোঙর করা হয়েছে।
বিশেষ করে ৬০০ জাহাজ সমুদ্রে ভাসছে—এই তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বাস্তবে, আমদানি পরিমাণ এত বড় যে দেশের গুদাম ও জাহাজের ক্ষমতা তা সামলাতে পারছে না, ফলে কিছু জাহাজ অল্প সময়ের জন্যই নোঙর করা হয়।
কয়েকটি জাহাজ মাত্র তিন থেকে পাঁচ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে, তারপর পণ্য গুদামে না পৌঁছাতে পারায় আবার নোঙরে ফিরে আসে। এই পরিস্থিতি সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয় এবং বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই যাচাইবিহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীর মধ্যে অস্থিরতা বাড়ায়। অস্থিরতা বজায় থাকলে দাম ওঠানামা বাড়ে এবং রমজান মাসে বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে।
এইসব বিষয় সত্ত্বেও তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করেন, আগামী রমজান গত রমজানের তুলনায় উন্নত হবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাজার বিশ্লেষকেরা এই মন্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করছেন। যদি রমজান মাসে পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে, তবে মৌসুমী চাহিদা পূরণে দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ব্যবসায়িক লাভের মার্জিন উন্নত হবে।
অন্যদিকে, জাহাজশিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুদাম সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই কাঠামোগত ঘাটতি দূর করা না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি রয়ে যাবে।
সংক্ষেপে, রমজান মাসে সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধার, বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সরকারী নীতি সমর্থন বাজারের স্বস্তি বাড়াবে। তবে সামাজিক মিডিয়ায় ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ এবং জাহাজশিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।



