বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে একসাথে কাজ করে পূর্বে বাতিল হওয়া সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)‑এর অনুমোদন পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ঘটছে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে মাত্র দুই কার্যদিবস বাকি।
এসপিএল‑এর আবেদন বাতিলের পর, বিপিসি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্বে বিতরণ ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। এই কমিটি ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, তবে প্রতিবেদনে প্রকল্পের আর্থিক বিনিয়োগের কোনো স্পষ্ট তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এরপর ১৬ নভেম্বর ২০২৫-এ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, এসপিএল‑কে কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়নি; ফলে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই এবং পূর্বের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আবেদনটি বাতিল করা হয়।
বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভা ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যার এজেন্ডা ছিল এসপিএল‑কে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পূর্বে মজুদ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিক্রির অনুমতি প্রদান। তবে সভাটি একদিন আগে, রবিবার বিকেল ৫টায় পুনরায় নির্ধারিত হয়।
সেই জুম সভায় বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক উপস্থাপিত কার্যপত্রে সুপারিশ করেন যে, বর্তমান নীতিমালার অধীনে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিবেচনা করতে পারে। এই সুপারিশটি বোর্ডের আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)‑এর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে। একই সময়ে, এসপিএল‑এর নতুন রিফাইনারি অনুমোদনের জন্য করা সুপারিশকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সময়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পই প্রথম অগ্রাধিকার। সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং সকল দিক বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের এই সমন্বয় তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য এবং মূল্য গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এসপিএল‑কে অনুমোদন দেওয়া হয়, তবে দেশীয় তেল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে অনুমোদনের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক সময়সীমা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে, সরকারী নীতির অস্থিরতা এবং স্বল্পমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন তেল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও মূলধন বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পের অগ্রাধিকার বজায় থাকায়, এসপিএল‑এর প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীর হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের মধ্যে চলমান অনুমোদন প্রক্রিয়া তেল শিল্পের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে, তবে রাজনৈতিক সময়সীমা, আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



