বাংলাদেশ ব্যাংক আজ ঢাকায় মুদ্রা নীতি সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে যে, ৫০ কোটি টাকার উপরে ঋণ গ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জামানত হিসেবে দাখিল করা ভূমি ও সম্পত্তি সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দল পরিদর্শন করবে। এই পদক্ষেপটি উচ্চমূল্যের ঋণের ঝুঁকি কমিয়ে আর্থিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে জামানত স্বীকৃতি দিত। তবে নতুন নীতির অধীনে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ টিম জমি ও সম্পত্তির প্রকৃত উপস্থিতি ও বাজারমূল্য যাচাই করবে, যাতে অতিরিক্ত বা কাল্পনিক মূল্যায়ন রোধ করা যায়।
গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর বলেন, “জামানত হিসেবে দাখিল করা সম্পত্তি বা ভূমি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দল পরিদর্শন না করে, তবে ঋণ প্রদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সম্পত্তিগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধন করে পর্যালোচনা করা হবে।
এই নির্দেশনা মূলত কর্পোরেট সেক্টরের ঋণগ্রহীতা গোষ্ঠীর ওপর লক্ষ্য করে, যেখানে রাজনৈতিক সংযোগযুক্ত কিছু সংস্থা অতিরিক্ত ঋণ পেয়ে থাকে এবং প্রায়শই অপ্রতুল বা অতিমূল্যায়িত সম্পত্তি জামানত হিসেবে ব্যবহার করে। সরকারী ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এই ধরনের অনিয়মের উদাহরণ দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকগুলোকে ঋণ অনুমোদনের আগে সম্পত্তির শিরোনাম, রেজিস্ট্রেশন এবং বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এখন নিজস্ব মূল্যায়ন ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যাচাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে জামানত নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তথ্য জমা দিতে হবে এবং পরিদর্শনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো দেরি হলে ঋণ অনুমোদন বিলম্বিত হতে পারে।
উচ্চমূল্যের ঋণগুলোতে নন-পারফরমিং লোনের (এনপিএল) অনুপাত বেশি, যা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। জামানত পরিদর্শনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি হ্রাস করা এবং ঋণগ্রহীতার দায়িত্বশীলতা বাড়ানো লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই নীতি প্রয়োগের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠ পরিদর্শন করবে। টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং অভ্যন্তরীণ অডিটর নিয়ে গঠিত।
এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঋণদাতারা এখন সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যায়ন ছাড়া ঋণ প্রদান করতে পারবে না, ফলে অতিরিক্ত ঋণগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যাবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, জামানত পরিদর্শন দীর্ঘমেয়াদে ঋণ মানের উন্নতি করবে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। তবে স্বল্পমেয়াদে ঋণ অনুমোদনের গতি ধীর হতে পারে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলছে। পরিদর্শনের ফলাফল এবং প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী মাসে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।



