লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর পাকিস্তান-ভারত টেস্ট সিরিজের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ম্যাচটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এই ম্যাচটি কলম্বোতে নির্ধারিত এবং দুই দলের ভক্তদের জন্য ভ্রমণ সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তাহের শেষের দিকে লাহোরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কিত বিরোধের সমাধানের জন্য প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শারিফের টেবিলে পৌঁছেছে এবং তার অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। শারিফ এবং PCB প্রধান মোহসিন নাকভীর মধ্যে দিনের শেষে একটি বৈঠক নির্ধারিত, যার পরে ICC অথবা PCB থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রত্যাশিত।
ম্যাচের তারিখের কাছাকাছি সময়ে কোনো দেরি হলে ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের কলম্বোতে যাত্রা পরিকল্পনা ব্যাহত হবে, যা উভয় দিকের জন্যই ক্ষতিকর হবে। তাই দ্রুত ঘোষণা দেওয়া উভয় দলের স্বার্থে বিবেচিত হচ্ছে।
ICC এই মুহূর্তে জোর দিয়ে বলছে যে পাকিস্তান কোনো অতিরিক্ত চাহিদা উপস্থাপন করতে পারবে না এবং সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (MPA) ও ডিসেম্বর ২০২৪-এ স্বাক্ষরিত হাইব্রিড হোস্টিং চুক্তির শর্ত অনুসারে খেলতে হবে। এই চুক্তি নির্ধারিত হয়েছে যাতে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মিডিয়ায় কিছু অনুমান করা হয়েছে যে PCB ভারতীয় দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক সিরিজেরও দাবি করে। তবে এই দাবিগুলোর কতটুকু স্বীকৃত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ICC এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক সিরিজের গ্যারান্টি দিতে পারছে না, কারণ তা ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।
ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের সরাসরি সিরিজের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশ মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সময়সূচি ইতিমধ্যে নির্ধারিত, যা এই আলোচনার পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, PCB এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উভয়ই হাইব্রিড হোস্টিং মডেলকে সমর্থন করছে, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক উদ্বেগের সমাধান হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছে। এই মডেল অনুসারে, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা ভক্তদের জন্য সহজলভ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
শাহবাজ শারিফের অনুমোদন পাওয়ার পর, ICC অথবা PCB থেকে দ্রুত একটি ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ভ্রমণ সংস্থা, টিকিট বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারবে।
যদি অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে এবং উভয় দেশের ভক্তদের জন্য একটি বড় উৎসবের মতো হবে।
অন্যদিকে, যদি কোনো দেরি বা অতিরিক্ত চাহিদা উত্থাপিত হয়, তবে ম্যাচটি পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা ভক্ত ও স্পনসরদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
সর্বশেষে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ICC এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সমাধান বের করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফলই আগামী সপ্তাহে ভক্তদের জন্য স্পষ্ট হবে।



