সোমবার বিকেল প্রায় তিনটায় পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর বাড়ির সামনে লোহার পাইপ দিয়ে আক্রমণ করা হয়। দুই থেকে চারজন অপরিচিত ব্যক্তি হিরুকে এলোপাথাড়ি মারেন এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাথরঘাটা থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেন।
হিরু জানান, “আমি পাথরঘাটা বাজারে যাওয়ার সময় তিন থেকে চারজন লোক এসে আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে পালিয়ে যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এতে আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসায় চিকিৎসক ডেকে নিয়ে সেবা নিচ্ছি।” আহত অবস্থায় তিনি বাড়িতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন।
একজন নাম প্রকাশ না করা প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হিরু দুপুরের খাবার শেষ করে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিলেন, তখনই বাড়ির সামনেই আক্রমণ ঘটে। “এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে জামায়াত-এ-ইসলামি একটি প্রচার মিছিল যাচ্ছিল। সেখান থেকে কয়েকজন হিরুকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেয়,” তিনি জানান।
এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ নেন এবং স্থানীয় নিরাপত্তা দলকে তৎক্ষণাৎ মোতায়েন করেন। নৌবাহিনী, বাংলাদেশ গার্ড এবং পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যায়। বর্তমানে অপরাধীর পরিচয় নির্ণয়ের জন্য অনুসন্ধান চালু রয়েছে।
হিরু ১৯৯৬ সালে বরগুনা-২ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পর থেকে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ থেকে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন, আর ২০২৩ সালে আবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় উঠে আসেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য স্থানীয় পুলিশ বিভাগ বিশেষ দায়িত্বশীল দল গঠন করেছে। এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের মতে, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সনাক্তকরণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ সমন্বিতভাবে চালিয়ে গিয়ে শীঘ্রই আদালতে মামলার দায়ের করা হবে।
হিরুর পরিবার ও সমর্থকরা ঘটনার শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও হিংসা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলেছে।



