খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নাড়াইছড়ি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত তিনটি দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রের জন্য সোমবার সকালেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানো হয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল অপ্রবেশযোগ্য এলাকায় ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া।
দূরবর্তী এলাকায় অবকাঠামোর অভাব এবং কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে ঐতিহ্যবাহী পরিবহন পদ্ধতি ব্যবহার করা কঠিন। তাই হেলিকপ্টারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাতে ভোটের সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা কর্মী সময়মতো পৌঁছাতে পারে। হেলিপ্যাডটি দীঘিনালা সেনানিবাসের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার সরাসরি নাড়াইছড়ির নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে অবতরণ করে।
খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেনের মতে, এই জেলার তিনটি ভোটকেন্দ্রই কঠিন ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত, যেখানে রোড নেটওয়ার্কের ঘাটতি রয়েছে। তাই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সরঞ্জাম এবং কর্মী পাঠানো একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পুলিশ এবং আনসার সদস্যসহ নিরাপত্তা দলকে একই সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।
নাড়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এই সরঞ্জাম পাঠানো হয়, যেখানে ভোটের বাক্স, ভোটার তালিকা, ভোটার কার্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, লাক্সীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পুট্টিছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই রকম সরঞ্জাম ও কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই তিনটি স্কুলই নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র, যেখানে স্থানীয় জনগণ ভোট দিতে পারবে।
বহুদিনের প্রস্তুতির পর, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই ধরনের বিশেষ লজিস্টিক্স ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়। কমিশনের নির্দেশে, বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হেলিকপ্টার চালু করা হয়েছে, যা নির্বাচনী সময়সূচি মেনে চলতে সহায়তা করবে।
হেলিকপ্টার চালনা ও অবতরণে সামরিক কর্মীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপদে সরঞ্জাম স্থানান্তর করা যায়। এই ধরনের সামরিক-নাগরিক সমন্বয় পূর্ববর্তী নির্বাচনে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভোটারদের সেবা নিশ্চিত করার জন্য পুনরায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, নির্বাচনী কর্মীরা এখনো শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরঞ্জাম পৌঁছানোর পর, প্রতিটি কেন্দ্রের পোলিং স্টেশন গঠন, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ভোটবাক্স স্থাপন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। নিরাপত্তা দিক থেকে, প্রিজাইডিং অফিসার এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণের সময় কোনো অনিয়ম না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে, দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে। ভোটের সরঞ্জাম হেলিকপ্টার দিয়ে সরবরাহ করা হলে সময়সীমা কমে যায় এবং অপ্রয়োজনীয় দেরি এড়ানো যায়, যা নির্বাচনের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়।
অবশেষে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সব স্তরে সমন্বয় বজায় রেখে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হেলিকপ্টার মাধ্যমে সরবরাহিত সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা কর্মী ভোটের দিন নাগাদ পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে, যাতে নাড়াইছড়ি, বর্মাছড়ি ও পুট্টিছড়ি এলাকার ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই তাদের ভোট দিতে পারে।



