বিমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা লন্ডন গন্তব্যের ফ্লাইটে যাত্রা করা যাত্রীদের ভিসা ও পাসপোর্টের বৈধতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনা যুক্তরাজ্যের সীমানা নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে বর্ডার ফোর্সের সাম্প্রতিক নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রকাশিত। যাত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঠিকতা নিশ্চিত না হলে ভ্রমণে বাধা বা বিলম্বের সম্ভাবনা বাড়ে।
ইউকে বর্ডার ফোর্সের মতে, পাসপোর্ট বা ভিসার তথ্য হালনাগাদ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। এই অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া যাত্রীদের জন্য সময়সাপেক্ষ এবং কখনও কখনও ফ্লাইটে চেক‑ইন থেকে বাদ পড়ার কারণ হতে পারে। তাই বিমান বাংলাদেশি যাত্রীদেরকে পূর্বেই নথিপত্রের সঠিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
যদি ভিসা মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের তারিখ কাছাকাছি থাকে, তবে যুক্তরাজ্যের গেটের কাছে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চেকের মুখোমুখি হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদেরকে পুনরায় ভিসা আবেদন বা পাসপোর্ট নবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হতে পারে, যা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে।
বিমান বাংলাদেশি যাত্রীদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, যাত্রা শুরুর আগে সব প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করে নিন। অনলাইন চেক‑ইন বা এয়ারলাইন কাস্টমার সার্ভিসের মাধ্যমে নথিপত্রের বৈধতা যাচাই করা সম্ভব। নথি যাচাইয়ের কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা উচিত, যাতে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা না হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নতুন সীমানা ব্যবস্থায় দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য প্রবেশের প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই ভিসা ও পাসপোর্টের তথ্য আপডেট না থাকায় প্রবেশে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নতুন নীতির অধীনে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই এবং ডকুমেন্টের স্বচ্ছতা প্রয়োজনীয়তা বাড়ানো হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী বহু ব্যক্তি ভিসা পুনরায় আবেদন বা পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন। বিশেষত যারা দু’টি নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাদের জন্য নতুন নিয়মের ফলে বিমান সংস্থা এবং ভ্রমণ এজেন্সিগুলোর কাজের চাপ বেড়েছে। বিমান বাংলাদেশি এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় এই সীমানা পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা নীতি এবং দ্বৈত নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সমন্বয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে নতুন সীমানা নীতি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য গৃহীত হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা কঠিন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার সাম্প্রতিক ভিসা নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, যুক্তরাজ্য এখন আরও কঠোর ডকুমেন্ট যাচাই প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। এই ধারা গ্লোবালভাবে সীমানা নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভ্রমণকারীর ডেটা শেয়ারিং এবং রিয়েল‑টাইম যাচাই প্রাধান্য পায়।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, নতুন সীমানা ব্যবস্থা উভয় দেশের নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, এই ধরনের কঠোরতা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে, তবে ভ্রমণ শিল্পের জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি ও তথ্য আপডেটের প্রয়োজন বাড়াবে।
বিমান বাংলাদেশি এই নির্দেশনা দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো নীতি পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের জানাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, নতুন সীমানা নীতি কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার আপডেট সময়ে সময়ে প্রকাশ করা হবে। যাত্রীর জন্য সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য এয়ারলাইন ওয়েবসাইট এবং গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে, ভিসা ও পাসপোর্টের বৈধতা নিশ্চিত করা এখন অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিমান বাংলাদেশি যাত্রীদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে যে, ভ্রমণের আগে নথিপত্রের মেয়াদ, ভিসার শর্তাবলী এবং যুক্তরাজ্যের প্রবেশ নীতির সর্বশেষ আপডেট যাচাই করুন। এভাবে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়িয়ে গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংক্ষেপে, লন্ডন গন্তব্যের ফ্লাইটে যাত্রা করতে ইচ্ছুক সকল বাংলাদেশি যাত্রীকে তাদের ভিসা ও পাসপোর্টের বৈধতা পুনরায় পরীক্ষা করে নেবার অনুরোধ করা হচ্ছে। নতুন সীমানা নীতির ফলে অতিরিক্ত যাচাই, বিলম্ব বা ভ্রমণ জটিলতা এড়াতে এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য। বিমান বাংলাদেশি যাত্রীর নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাত্রার জন্য এই নির্দেশনা জারি করেছে।



