প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী কেট মিডলটন এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সাম্প্রতিক প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নথি থেকে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো রাজার পরিবারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে রাজা চার্লসের বড় ভাই অ্যান্ড্রু, যাকে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ বৃত্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি রাজপরিবারের সর্বোচ্চ স্তরে সরাসরি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
প্রিন্স এবং প্রিন্সেসের মুখপাত্র রিয়াদে সফরের আগে সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, উভয়ই প্রকাশিত তথ্যগুলোকে গম্ভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের সদস্যদের দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে সঙ্গে তারা তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই মন্তব্যকে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রতি পরিবারের সবচেয়ে সরাসরি অবস্থান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
অ্যান্ড্রু, যিনি পূর্বে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সরকারি দায়িত্বে ছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে রাজার অভ্যন্তরীণ বৃত্ত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালে এপস্টেইনকে শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও, অ্যান্ড্রু তার সরকারি পদ ব্যবহার করে সংবেদনশীল ব্রিটিশ নথি এপস্টেইনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু তার দায়িত্বের আওতায় এপস্টেইনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরবরাহ করেছিলেন। এই তথ্যগুলো তার পূর্বের বিচ্ছিন্নতার কারণকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
অ্যান্ড্রুর এই কাজের ফলে রাজার পরিবারে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়ছে। রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা গত অক্টোবর মাসে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির শিকারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলেন, তবে অ্যান্ড্রুর নতুন অভিযোগগুলো পরিবারকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলেছে। পরিবারিক সদস্যদের মধ্যে এই বিষয়ের প্রতি মনোযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনমতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইলের প্রভাব শুধুমাত্র রাজপরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগে সমালোচনার মুখে। পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর স্টারমার তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিষয়টি সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
থেমস ভ্যালি পুলিশ অ্যান্ড্রুর একটি ঠিকানায় এক নারীকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সংগ্রহে নিয়োজিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু যে নথি শেয়ার করেছিলেন সেগুলোতে সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্য ও কূটনৈতিক নথি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই নথিগুলো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে পৌঁছানোর ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। সরকারী দপ্তরগুলো এখন এই তথ্যের সঠিক পরিধি নির্ধারণে কাজ করছে।
রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাবকে সীমিত করার জন্য আইনগত ও নৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ তদন্ত ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারিক সদস্যদের প্রকাশিত মন্তব্যকে সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি এক ধরনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসও এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। স্টারমার সরকার এখন নীতি সংশোধনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে তোলা নতুন অভিযোগের আইনি দিকও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি সম্ভাব্যভাবে গোপনীয় নথি প্রকাশের অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন। আদালতীয় প্রক্রিয়া শুরু হলে, যুক্তরাজ্যের আইনগত ব্যবস্থা কীভাবে এই ধরনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মোকাবেলা করবে তা নজরে থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নতুন প্রকাশনা রাজার পরিবার, সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ আদালতীয় সিদ্ধান্তগুলো এই বিষয়ের চূড়ান্ত সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য এখন সময় এসেছে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে কাজ করার।



