গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি বিশেষ মিডিয়া গাইড প্রকাশ করেছে। গাইডটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিদেশি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব সম্পাদনে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে নির্বাচনের সময়কাল, প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাইডের মূল অংশে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং সকল রিটার্নিং অফিসারের নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত বিভিন্ন এজেন্সির ই-মেইল ঠিকানা ও জরুরি হটলাইন নম্বরও তালিকাভুক্ত। এই তথ্যগুলো সহজে বহনযোগ্য একটি বইয়ের আকারে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে সাংবাদিকরা মাঠে দ্রুত প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।
ঢাকার প্রধান সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের ফোন নম্বর গাইডে যুক্ত করা হয়েছে। পিআইডি’র মিডিয়া সেন্টারের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে বিদেশি সাংবাদিকরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি সহায়তা নিতে পারেন। এই ব্যবস্থা সাংবাদিকদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করে।
গাইডে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করা হয়েছে। মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন সেবা প্রদানকারী এবং জরুরি অবস্থায় দরকারি ফোন নম্বরগুলো স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত। ফলে বিদেশি সাংবাদিকরা দেশের অভ্যন্তরে চলাচল, বাসস্থান এবং জরুরি সেবা গ্রহণে সহজে সমাধান পেতে পারেন।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি গাইডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত আচরণবিধি বিশেষভাবে বিদেশি মিডিয়ার জন্য সাজানো হয়েছে, যাতে তারা দেশের আইন ও নীতিমালা মেনে সুষ্ঠু কভারেজ প্রদান করতে পারে। এই নির্দেশনা সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
পিআইডি গাইডের মাধ্যমে বিদেশি মিডিয়ার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনী তথ্যের সঠিকতা ও সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করতে চায়। গাইডে উল্লেখিত যোগাযোগের মাধ্যমে যে কোনো প্রশ্ন বা সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, যা নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য তথ্যের সহজলভ্যতা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিআইডি গাইডের ব্যবহার বাড়বে এবং তা দেশের নির্বাচনী পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গাইডের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মিডিয়া দেশের রাজনৈতিক গতিবিধি সম্পর্কে সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে পারবে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
পিআইডি ভবিষ্যতে গাইডের বিষয়বস্তু আপডেট করে নতুন তথ্য যোগ করার পরিকল্পনা করেছে এবং মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে চলমান সহায়তা প্রদান করবে। এই ধারাবাহিক সেবা বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, যা নির্বাচনী কভারেজকে আরও পেশাদার এবং নিরাপদ করে তুলবে।



