22 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টি প্রধানের বিদেশি নারী আমদানি মন্তব্যে গণতান্ত্রিক দল থেকে...

দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টি প্রধানের বিদেশি নারী আমদানি মন্তব্যে গণতান্ত্রিক দল থেকে বহিষ্কৃত

কিম হি-সু, জিন্ডো কাউন্টির প্রধান, সম্প্রতি টাউন হল মিটিংয়ে “ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী নারী আমদানি করে গ্রামীণ যুবকদের সঙ্গে বিবাহ করানো” এমন মন্তব্য করেন, যা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র নিন্দা উসকে দেয়। এই বক্তব্যের পর গণতান্ত্রিক দল কিমকে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের মুখোমুখি, যেখানে ৫০ মিলিয়ন জনসংখ্যা ৬০ বছরে অর্ধেক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিমের প্রস্তাবের পেছনে দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের উদ্বেগ রয়েছে; সরকারী পরিসংখ্যান দেখায় যে গ্রামীণ এলাকায় যুবকসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে, ফলে শ্রমশক্তি ও পারিবারিক গঠন দুটোই বিপন্ন। জিন্ডো কাউন্টি এবং পার্শ্ববর্তী শহরের সংহতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য টাউন হলের আহ্বান জানানো হয়েছিল, যেখানে কিমের মন্তব্যকে জনসংখ্যা সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তার শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গি ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার জনগণের মধ্যে রাগের সঞ্চার করে, যা কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

ভিয়েতনাম দূতাবাস সিয়োলের ফেসবুক পোস্টে কিমের মন্তব্যকে “মাইগ্র্যান্ট নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি মানসিকতা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন” হিসেবে চিহ্নিত করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। শ্রীলঙ্কা সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। দক্ষিণ জেল্লা প্রদেশের সরকারী দপ্তরও কিমের কথাকে “অনুপযুক্ত” বলে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে তার বক্তব্য ভিয়েতনামি জনগণ ও নারীদের গভীর কষ্টের কারণ হয়েছে।

কিমের ক্ষমা প্রার্থনা টাউন হলের পরপরই করা সত্ত্বেও জনমতকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে; সামাজিক মাধ্যমে এবং নারীর অধিকার সংস্থাগুলি তার মন্তব্যকে লিঙ্গ বৈষম্য ও মানবিক অবহেলার উদাহরণ হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করে। গণতান্ত্রিক দলের সর্বোচ্চ পরিষদে একমত ভোটে কিমকে বহিষ্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দলীয় নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে জিন্ডো কাউন্টি অফিসের সামনে নারী ও মাইগ্র্যান্ট অধিকার সংস্থাগুলি রালির পরিকল্পনা করেছে, যাতে কিমের মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট সামাজিক ক্ষতি তুলে ধরা যায়।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে বিদেশি নারীর “আমদানি” মত অপ্রাসঙ্গিক সমাধান জন্মহারের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সরকার বর্তমানে পরিবার সহায়তা, শিশুর যত্নের সুবিধা এবং কর্মসংস্থান নীতি ইত্যাদি মাধ্যমে জন্মহার বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করেছে, তবে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষা ও প্রকাশভঙ্গি সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কিমের মন্তব্যের ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, শ্রম বাজারের বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রামগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারী দপ্তরগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, যাতে কূটনৈতিক উত্তেজনা কমে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। গণতান্ত্রিক দলও অভ্যন্তরীণ নীতি শক্তিশালী করে অনুপযুক্ত মন্তব্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরিকল্পনা করেছে, যা দেশের জনসংখ্যা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

কিম হি-সুর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং এই ঘটনা ভবিষ্যতে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধানে নৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments