বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একমাত্র নারী প্রার্থী দিলরুবা নূরি, পায়ে হেঁটে এবং হাতে বহন করা লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে এই আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।
এই নির্বাচনী লড়াইয়ে সাতটি আসনের জন্য ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে নূরি, ৩৮ বছর বয়সী, একমাত্র মহিলা প্রার্থী হিসেবে আলাদা অবস্থানে আছেন। তার উপস্থিতি নারী প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
তিনি ডেমোক্র্যাটিক ইউনাইটেড ফ্রন্টের ত্রিপাক্ষিক জোটের অংশ, যার প্রতীক ‘ল্যাডার’ (ময়ি)। এই জোটে মোট নয়টি বামপন্থী দল যুক্ত, যা নূরির রাজনৈতিক ভিত্তি গঠন করে।
আইনি পেশায় কাজ করা নূরি, বগুড়া শহরের সংকীর্ণ গলিতে ঘন ঘন দেখা যায়, যেখানে তিনি দরজায় দরজা গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করেন। প্রয়োজন হলে তিনি একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে তার পৌঁছানোর পরিসর বাড়িয়ে নেন, যদিও এর খরচ তার জন্য বড় বাধা।
প্রার্থীর আর্থিক স্বীকারোক্তিতে দেখা যায়, তার ব্যাংক ব্যালেন্সে মাত্র দশ হাজার টাকা রয়েছে। তার প্রচারমূল্য মূলত সমর্থকদের ছোট ছোট দান থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা তার সীমিত সম্পদের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
নূরি সব ভোটারকে তার বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন, তবে তিনি স্বীকার করেন যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অষ্টাদশ দিন হেঁটে চললেও পাঁচ লাখের কাছাকাছি ভোটারকে সম্পূর্ণভাবে কভার করা বাস্তবিকভাবে অসম্ভব।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থী প্রতি ভোটারকে দশ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন, যা বগুড়া-৬ আসনের জন্য প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ টাকার সীমা নির্ধারণ করে। নূরি জিজ্ঞাসা করেন, এই পরিমাণ অর্থ তিনি কীভাবে সংগ্রহ করবেন এবং অন্য প্রার্থীরা কীভাবে এত বড় বাজেট ব্যবহার করছেন।
প্রচারের মৌলিক খরচের মধ্যে পিকআপ ভ্যান ভাড়া এবং তিনটি লাউডস্পিকারের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত, যার দৈনিক ব্যয় প্রায় ছয় হাজার টাকা। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ নাগরিকের পকেট থেকে এই ধরনের ব্যয় করা কঠিন, আর ধনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা কীভাবে এই সীমা অতিক্রম করে তা স্পষ্ট নয়।
নূরি আরও জানান, অনেক সমৃদ্ধ প্রার্থীর আর্থিক উৎস ব্যাংক ঋণ বা অবৈধ ঋণদাতা থেকে আসতে পারে, যা জনসাধারণের অর্থকে পরোক্ষভাবে ব্যবহার করার মতো। তিনি এই ধরনের আর্থিক প্রক্রিয়াকে ন্যায়সঙ্গত না বলে সমালোচনা করেন।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাষ্ট্র নীতি মূলত ধনী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করে, যেখানে শ্রমিক শ্রেণী ও নারীরা কেবল ভোটার হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে, প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পায় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক পথে নূরির প্রবেশ ২০০৩ সালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মাধ্যমে শুরু হয়। ২০২২ সাল থেকে তিনি জেলা সদস্য সচিবের পদে আছেন, যা তার স্থানীয় সংগঠন ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনে তার অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে নারী অংশগ্রহণের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও নারী প্রার্থীর উত্থানকে উত্সাহিত করতে পারে। তবে আর্থিক অসমতা ও প্রচার সীমাবদ্ধতা তার নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও অনিশ্চিত।



