গত সপ্তাহান্তে প্রিমিয়ার লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিভারপুল ১-২ স্কোরে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হেরে যায়। দুই গোলের পার্থক্যেই ম্যানচেস্টার সিটি তিন পয়েন্ট বাড়িয়ে নেয়, আর লিভারপুলের শিরোপা রক্ষার স্বপ্ন ক্ষীণ হয়ে যায়।
ম্যাচের মূল মুহূর্তগুলোতে লিভারপুলের কয়েকটি ত্রুটি বড় প্রভাব ফেলেছে। ডোমিনিক সজবস্লাই বর্নার্দো সিলভাকে অনসাইডে পাস দিয়ে সমতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেন, যা শেষ পর্যন্ত সিটির সমতা গোলের দিকে নিয়ে যায়। সজবস্লাই পরে লাল কার্ড পান, যা দলের রক্ষণশক্তিকে আরও দুর্বল করে দেয়। এছাড়া গোলরক্ষক আলিসন মথেউস নুনেসের ওপর ফাউল করে, যার ফলে এরলিং হাল্যান্ডের পেনাল্টি গোলটি ম্যাচের সিদ্ধান্তমূলক হয়ে ওঠে।
ম্যানচেস্টার সিটির দিকে নজর দিলে, বর্নার্দো সিলভা এবং গিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডোনারুম্মা শেষ মুহূর্তে করা সেভটি ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, আর সিলভা হাল্যান্ডের গোলের সহায়তা করে। মার্ক গুইহি রক্ষণশক্তিতে দৃঢ়তা যোগায়, যা সিটির সামগ্রিক রক্ষণাত্মক গঠনকে শক্তিশালী করে। হাল্যান্ডের উপস্থিতি এবং তার গোলদানের ক্ষমতা ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণকে ধারালো করে তুলেছে।
লিভারপুলের গ্রীষ্মকালীন বিশাল ব্যয়কে নিয়ে ক্লাবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট, তবে এই ম্যাচে দেখা যায় যে ব্যক্তিগত প্রতিভা সংগ্রহের পাশাপাশি ট্যাকটিক্যাল সামঞ্জস্যের অভাব দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর্নে স্লটের অধীনে দলটি আবারও দুর্বল দিকগুলো প্রকাশ করে, বিশেষ করে মিডফিল্ডে পূর্ণব্যাকের ভূমিকা পালন করা খেলোয়াড়দের ভুলে। স্লটের কোচিং স্টাইলের প্রতি তার প্রশংসা সত্ত্বেও, পেগুয়ার্ডিয়োর সঙ্গে সম্ভাব্য কূপের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়নি।
ম্যানচেস্টার সিটির সামগ্রিক মানসিকতা এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও দলটি পূর্বে অনিশ্চিত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল, তবে এই জয়টি তাদের আত্মবিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। হুগো একিটিকের মিস এবং মোহাম্মদ সালাহের প্রভাব কমে যাওয়া সিটিকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়, ফলে তারা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে পারে।
অন্যদিকে, ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাসনার জানিয়েছেন যে জাঁ-ফিলিপ মাটেটা তার হাঁটুর আঘাতের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে অপারেশন করবেন কিনা তা সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সিদ্ধান্ত তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
গ্লাসনারের দলটি ব্রাইটনের বিরুদ্ধে জয় অর্জনের পর নতুন আক্রমণকারী জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের ডেবিউ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। নরওয়ের এই ফরোয়ার্ড যদিও কিছুটা অপ্রশিক্ষিত দেখায়, তবু তিনি দলের আক্রমণে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছেন। তার উপস্থিতি ক্রিস্টাল প্যালেসের রিলিগেশন ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করেছে এবং তার একক প্রিমিয়ার লিগ গোলের পাশাপাশি আরও স্কোর যোগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্লাসনার উল্লেখ করেছেন, “আমরা তিন-চারবার তার দিকে ক্রস পাঠিয়েছি, তবে তার চলাচল এতটাই চমৎকার যে আমরা তাকে ধরতে পারিনি।” স্ট্র্যান্ড লারসেনের মূল্য ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড, যা তাকে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চাপ বাড়িয়ে দেয়।
আসন্ন সপ্তাহে লিভারপুলের পরবর্তী ম্যাচে তারা কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, আর ম্যানচেস্টার সিটি তাদের শিরোপা শিকারের পথে আরও একটানা জয় যোগ করার লক্ষ্য রাখবে। ক্রিস্টাল প্যালেসের পরের গেমে তারা বাড়িতে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করবে, যেখানে স্ট্র্যান্ড লারসেনের পারফরম্যান্স পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।



