বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘Árru’ শিরোনামের নতুন ফিচার চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কাজটি নৃত্যশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এল্লে সোফে সারার প্রথম পরিচালনায় তৈরি, যেখানে আর্কটিকের স্যামি জনগণের ঐতিহ্যবাহী ভূমি ও আধুনিক খনন প্রকল্পের সংঘাতকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি স্যামি জনগণের স্বকীয় সংস্কৃতি, তাদের রেইনডিয়ার চারণভূমি এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে।
স্যামি হলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্বদেশীয় জনগোষ্ঠী, যারা নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে বিস্তৃত স্যাপমি অঞ্চলে বসবাস করে। শতাব্দী ধরে রেইনডিয়ার চারণ ও মাছ ধরা তাদের প্রধান জীবিকা, এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে জয়িক (প্রচলিত গীত) ও আত্মিক রীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘Árru’ এই ঐতিহ্যকে আধুনিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করেছে।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র মায়া, যাকে সারা মারিয়েল গাউপ বেস্কা অভিনয় করেছেন, তার পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র ভূমি রক্ষা করতে সংগ্রাম করে। মায়া যখন একটি বৃহৎ খনন প্রকল্পের মুখোমুখি হয়, তখন তাকে তার আত্মীয় লেম্মের সাহায্য নিতে হয়, যিনি তার অতীতের আঘাতগুলোকে আবার উন্মোচন করে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে মায়া দু’টি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়: একদিকে ভূমি রক্ষা করে সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, অন্যদিকে তার নিজের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
চলচ্চিত্রে মায়ার পাশাপাশি সিমন ইসাত মারাইনেন, আয়লা গারেন নুট্টি এবং মিকেল গাউপের মতো অভিনেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধন গল্পের আবেগময় স্তরকে সমৃদ্ধ করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর সহানুভূতি জাগায়।
নির্দেশক এল্লে সোফে সারার স্যামি সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ রয়েছে; তিনি গুওভডাগেইডনু নামের একটি স্যামি গ্রাম থেকে আসেন, যেখানে বাতাসে স্মৃতির গন্ধ ও নীরবতা নিজস্ব ভাষা হয়ে ওঠে। তার মতে, স্যামি গল্পগুলো প্রায়শই শব্দের বদলে গায়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা চলচ্চিত্রে জয়িকের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে।
সারা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য জোহান ফাস্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেছেন। এই সহযোগিতা স্যামি ঐতিহ্য ও আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের সংমিশ্রণকে আরও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করেছে। চিত্রনাট্যে ভূমি, পরিচয় ও পারিবারিক দায়িত্বের জটিল সম্পর্ককে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
‘Árru’ স্টেয়ার ফিল্মস ও ইটস অ্যালাইভ ফিল্মসের সমর্থনে তৈরি হয়েছে, এবং গ্যারেজফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। বিশ্ব বিক্রয় কাজটি দ্য ইয়েলো অ্যাফেয়ার পরিচালনা করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে চলচ্চিত্রের পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্লিন ফেস্টিভালের প্যানোরামা বিভাগে এই চলচ্চিত্রের নির্বাচন স্যামি সংস্কৃতির বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্যানোরামা বিভাগে সাধারণত সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে কাজগুলো প্রদর্শিত হয়, এবং ‘Árrু’ তার থিমের মাধ্যমে এই মানদণ্ড পূরণ করেছে।
ফেস্টিভালের সময় দর্শক ও সমালোচকরা মায়ার দ্বিধা ও তার পরিবারের মধ্যে সৃষ্ট টানাপোড়েনকে গভীরভাবে অনুভব করেছেন। চলচ্চিত্রের দৃশ্যমান শৈলী, স্যামি নৃত্য ও জয়িকের সংমিশ্রণ, এবং আর্টিকের শীতল দৃশ্যপটের ব্যবহার গল্পের আবেগকে তীব্র করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘Árrু’ স্যামি জনগণের স্বতন্ত্র পরিচয়কে আধুনিক পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে। এটি শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ডকুমেন্টারির মতো কাজ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্যামি ঐতিহ্যের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে স্যামি সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হওয়া বাস্তব সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, যা নীতি নির্ধারক ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ভবিষ্যতে স্যামি ভূমি রক্ষার জন্য আরও সমর্থন ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।
‘Árrু’ এর সফল বিশ্বপ্রদর্শনী স্যামি সংস্কৃতির বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাড়ানোর পাশাপাশি আর্টিকের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রটি স্যামি জনগণের আত্মিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি তুলে ধরে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।



