25 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যরাজনৈতিক দলগুলোর স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনিশ্চিত, মূল সংস্কার বাদ

রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনিশ্চিত, মূল সংস্কার বাদ

১ জানুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত নির্বাচনের আগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী সিলেবাসে স্বাস্থ্যের বিষয়কে কেন্দ্রীয় স্থান দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট নয় এবং কিছু লক্ষ্য অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সংস্কার, যেমন আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন ও আলাদা স্বাস্থ্য পরিষেবা গঠন, যা স্বাস্থ্য সেক্টর সার্ভিস কমিশনের সুপারিশে রয়েছে, কোনো দলই স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ হেলথ ইকোনোমিক্সের প্রফেসর সাইয়দ আবদুল হামিদ উল্লেখ করেন যে, এই মূল কাঠামো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কঠিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্তন রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক প্রফেসর বেন-নাজির আহমেদও জোর দেন যে, শাসন গ্রহণকারী দলকে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত বাজেট, দুর্নীতি-মুক্ত ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে। বাজেটের ঘাটতি, স্বাস্থ্য কর্মীর অভাব, রোগীর নিজস্ব ব্যয়ের উচ্চতা, সেবার অসম বণ্টন এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থা সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

এই সমস্যার ফলে হাজারো মানুষ গুণগত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া, পাঁচ দশকের পর প্রথমবার মোট জন্মহার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নির্দেশ করে এবং অন্যান্য নীতি উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক দলসহ প্রধান দলগুলো স্বাস্থ্যের বিষয়কে তাদের ম্যানিফেস্টোর শীর্ষে রেখেছে। প্রতিটি দলই নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, তবে বাস্তবায়ন কৌশল স্পষ্ট নয়।

বিএনপি মোট ২২টি স্বাস্থ্য এজেন্ডা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জিডিপির ৫% পর্যন্ত স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি, সব নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রদান, বিনামূল্যে ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, এক লক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ এবং অ-সংক্রামক রোগের বোঝা কমাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চালু করা।

জামায়াত-এ-ইসলামি ৩৭টি স্বাস্থ্য এজেন্ডা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও বঞ্চিত জনগণের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালু করা।

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশও স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশযোগ্যতা বাড়াতে টেলিমেডিসিন সেবা বিস্তারের পরিকল্পনা করেছে এবং বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য পুষ্টি প্রোগ্রাম চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জাতীয় নাগরিক দলও স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকারকে জোর দিয়ে, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে। তবে তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বাজেটের উল্লেখ সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন যে, স্পষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান এবং স্বচ্ছ তদারকি ছাড়া এইসব প্রতিশ্রুতি কেবল শব্দের খেলায় পরিণত হতে পারে। বাস্তবিক পদক্ষেপ ছাড়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলো অর্জন করা কঠিন।

অবশেষে, স্বাস্থ্য সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এভাবেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত করা সম্ভব হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments