বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার চট্টগ্রামের দুটি নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্পে গিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন। তিনি চট্টগ্রাম‑৬ (রাউজান) আসনের সালামত উল্লাহ উচ্চবিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম‑২ (ফটিকছড়ি) আসনের ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থাপিত ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন, যেখানে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মীরা কাজ করছিল।
পরিদর্শনের সময় মহাপরিচালক আশরাফুজ্জামান নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি স্থানীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সাথেও আলোচনা করে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, ভোটারদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে নিশ্চিত করতে, বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিদর্শন ও ঘোষণার তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিদর্শনের সময় বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্পের অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশের পর্যালোচনা করে, নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও মানবসম্পদ প্রস্তুতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে নির্বাচনী উপকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের মতে, নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং, সমন্বিত গশ্বর ও যৌথ প্রশিক্ষণ সেশন চালু করা হবে। এতে স্থানীয় পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আশরাফুজ্জামান উল্লেখ করেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল ভোটারদের জন্য কোনো ধরণের হুমকি বা বাধা না রেখে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি অতিরিক্তভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্ত সকল সদস্যই দেশের সংবিধান ও আইন মেনে চলবে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকবে।
এই পরিদর্শন ও ঘোষণার মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশের শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে।



