মার্ক সোনেনব্লিক, ‘গোল্ডেন’ গানের সহ-লেখক, সম্প্রতি জানিয়েছেন নেটফ্লিক্সের সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা অর্জনকারী চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েল বর্তমানে কাজের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালে তিনি গোল্ডেন গ্লোব, গ্র্যামি জয় এবং একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তার সৃষ্টিশীল ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
‘গোল্ডেন’ গানের সাফল্যকে কেন্দ্র করে কপপ ডেমন হান্টার্সের প্রথম চলচ্চিত্রটি বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করে, এবং এই সাফল্যই সিক্যুয়েল তৈরির মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। সোনেনব্লিক উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পটি শূন্য থেকে এক মিলিয়ন দর্শকের পথে নিয়ে গিয়েছে, যা শিল্পী ও সৃষ্টিকর্তাদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা।
‘গোল্ডেন’ গানের গ্র্যামি জয় কপপ জেনারের জন্য প্রথমবারের মতো অর্জিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। একই গানের একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়নও সম্প্রতি নিশ্চিত হয়েছে, যা সোনেনব্লিকের জন্য অতিরিক্ত গর্বের বিষয়।
সোনেনব্লিকের মতে, এই মনোনয়নের পেছনে ভক্তদের সক্রিয় প্রচার ও মুখে মুখে শেয়ার করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি ভক্তরা না থাকত, তবে এই স্বীকৃতি সম্ভব হতো না।” এই মন্তব্যে তিনি ভক্তদের সমর্থনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কপপ ডেমন হান্টার্সের স্রষ্টা ম্যাগি কাংও ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছেন, সিরিজের চরিত্রগুলো নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি জানান, “এখানে আরও অনেক গল্প বলা বাকি আছে, এবং সিক্যুয়েলই সেই সম্ভাবনা পূরণ করবে।” এই মন্তব্য সিক্যুয়েলের সৃষ্টিকর্তা দলের দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে।
সোনেনব্লিক আরও জানান, সিক্যুয়েলের গানের রচনা প্রক্রিয়া প্রথমে গল্পের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, “গল্পের সঙ্গে সঙ্গীতের সমন্বয় হবে, যদি তা আমাদের জন্য পুনরায় কাজ করা যুক্তিযুক্ত হয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি সিক্যুয়েলের সঙ্গীতের গুণগত মান বজায় রাখার লক্ষ্যকে তুলে ধরে।
সোনেনব্লিকের বর্তমান কাজের মধ্যে ‘মিডনাইট অ্যাট দ্য নেভার গেট’ শিরোনামের নতুন মিউজিক্যালও অন্তর্ভুক্ত। এই মিউজিক্যালটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেতা ও থিয়েটার তারকা বেন প্ল্যাটের নেতৃত্বে লন্ডনের মেনিয়ার চকলেট ফ্যাক্টরিতে জুলাই মাসে মঞ্চস্থ হবে।
‘মিডনাইট অ্যাট দ্য নেভার গেট’ ১৯৬০-এর দশকের নিউ ইয়র্কের অবৈধ গে বারে গায়ক ও গীতিকারদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গল্পটি সেই সময়ের সামাজিক সীমাবদ্ধতা ও প্রেমের জটিলতা তুলে ধরে, যা দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।
বিনামূল্যে উপস্থিত দর্শকরা বেন প্ল্যাটের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রথমে আমি মার্কের গানগুলো শুনে ভাবতাম, এগুলো আমার বন্ধুর সৃষ্টিকর্ম, কিন্তু চরিত্র ও সঙ্গীতের গভীরতা আমাকে সম্পূর্ণভাবে মুগ্ধ করেছে।” এই মন্তব্য মিউজিক্যালের সৃজনশীল গুণমানকে নির্দেশ করে।
মিউজিক্যালের প্রস্তুতি ও রিহার্সালের সময় সোনেনব্লিকের দল গানের সুর ও লিরিক্সকে নাটকের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। তিনি বলেন, “গল্পের সঙ্গে সঙ্গীতের সমন্বয়ই আমাদের কাজের মূল, এবং আমরা তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে চাই।”
কপপ ডেমন হান্টার্সের সিক্যুয়েল ও ‘মিডনাইট অ্যাট দ্য নেভার গেট’ উভয়ই আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোনেনব্লিকের মতে, এই দুই প্রকল্পই তার সৃষ্টিশীল যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, এবং ভক্তদের সমর্থন ছাড়া এগুলো সম্ভব হতো না।
ভবিষ্যতে সিক্যুয়েল ও মিউজিক্যালের মুক্তি দর্শকদের জন্য কী ধরনের নতুন সুর ও গল্প নিয়ে আসবে, তা নিয়ে শিল্প জগতের প্রত্যাশা বাড়ছে। সোনেনব্লিকের কাজের ধারাবাহিকতা ও নেটফ্লিক্সের সমর্থন এই প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।



