আগামী বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং র্যাব একত্রে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রিয়েল‑টাইমে পর্যবেক্ষণ করবে। নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী, ড্রোনের মাধ্যমে মাঠে ঘটমান বাস্তব অবস্থা দ্রুত নির্ণয় এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যাবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সমর্থন প্রদান করা।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে।” এই বিবৃতি ড্রোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা স্পষ্ট করে।
চিঠিতে র্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে ড্রোন ক্যামেরা স্থাপন করে তার লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিমান বাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড ইসির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদান করার অনুরোধ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের দ্রুত প্রবাহ নিশ্চিত করবে।
বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে ড্রোনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও র্যাবের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকগণকে চিঠিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ড্রোনের মোতায়েন সময়মতো সম্পন্ন হয়।
এই প্রযুক্তি-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলকে রিয়েল‑টাইম তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড্রোনের লাইভ ফিডের মাধ্যমে মাঠে ঘটমান কোনো অস্বাভাবিকতা বা হিংসাত্মক কার্যকলাপ তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষম করবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ড্রোনের ব্যবহার প্রথমবারের মতো এত বিস্তৃতভাবে করা হচ্ছে, ফলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে, ড্রোনের গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল ড্রোনের লাইভ ফিডের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে। ড্রোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেয়ার করা হবে, যাতে নির্বাচনের সময় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় জনসাধারণের ইভেন্টে ড্রোন পর্যবেক্ষণকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।



