সিংগাইর উপজেলার মাঠে বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি উৎসবের প্রস্তুতিতে ফুলের চাষ বাড়ছে। ৩২ হেক্টর জমিতে গোলাপ, জারবেরা ইত্যাদি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার বিক্রয় প্রত্যাশা করছেন।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর ট্যালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা, নতুন ইরতা, ধল্যা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর, জয়মন্টপ ইউনিয়নের ভাকুম, শায়েস্তা ইউনিয়নের নীলটেক, জার্মিত্তা ইউনিয়নের পানিশাইল ইত্যাদি এলাকায় ফুলের বাগান গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলগুলোকে এখন ‘ফুলপল্লী’ বলা হয়।
স্থানীয় চাষীরা জানান, বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস এবং ২১ ফেব্রুয়ারি এই তিনটি দিনই ফুলের চাহিদা শীর্ষে থাকে, তাই এই সময়কে মূল মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রস্তুতির জন্য জমি সমতল করা, সেচ ব্যবস্থা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে অতিরিক্ত শ্রম দরকার।
ফোর্ডনগর এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, ঢাকার বিভিন্ন বাজার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগাম অর্ডার পাওয়া যায়। এই অগ্রিম অর্ডারগুলো মৌসুমের শুরুতে উৎপাদন পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মৌসুমে ৩২ হেক্টর জমিতে গোলাপ, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, স্টার ফুল, রজনীগন্ধা ও গাঁদা চাষ করা হচ্ছে। এই ফসলগুলো মূলত স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রি হয়।
উৎপাদিত ফুলের বড় অংশ ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং আশপাশের অন্যান্য বাজারে সরবরাহ করা হয়। শহীদ রফিক সড়কের ফুল বিক্রেতা উল্লেখ করেন, এই চ্যানেলগুলোতে দাম ও চাহিদা নির্ধারিত হয়।
সিংগাইর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, পূর্বের তুলনায় ফুলচাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে উৎসবের চাহিদা এবং কৃষকদের বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রধান কারণ।
উৎসবের নিকটবর্তী সময়ে ফুলের দামও বাড়ছে। বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশি গোলাপের দাম ৩০-৪০ টাকা, জারবেরার দাম ৪০-৫০ টাকা, গ্লাডিওলাসের দাম ২০-৩০ টাকা এবং রজনীগন্ধার দাম ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
উপরের দামগুলো স্থানীয় বিক্রেতা ও পাইকারদের তথ্যের ভিত্তিতে। এই মূল্য বৃদ্ধি মূলত মৌসুমের চাহিদা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে ঘটছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও বাজার সংক্রান্ত সূত্রে বলা হয়েছে, বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি তিন দিনেই প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০ লাখ টাকা বিক্রয় সম্ভাবনা রয়েছে। তিন দিনের মোট বিক্রয় কোটি টাকার অতিক্রম করতে পারে।
তবে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে কৃষকদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে। সার, কীটনাশক এবং শ্রমের খরচ বৃদ্ধি মূলধন ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, উচ্চ চাহিদা এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। গাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য ও সঠিক সময়ে ফসল তোলার মাধ্যমে বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
ভবিষ্যতে, যদি উৎসবের দিনগুলোতে মূল্য বৃদ্ধি ধারাবাহিক থাকে, তবে বিনিয়োগকারী ও কৃষকরা উচ্চ ফলন ও দ্রুত বিক্রয়ের জন্য আধুনিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে অতিরিক্ত ব্যয় ও বাজারের অস্থিরতা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে।
সংক্ষেপে, সিংগাইরের ফুল চাষ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করেছে, তবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের পরিবর্তনশীলতা নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন।



