26 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাঅন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মূল্যস্ফীতি হ্রাসে অগ্রগতি সীমিত

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মূল্যস্ফীতি হ্রাসে অগ্রগতি সীমিত

অন্তর্বর্তী সরকার আগস্ট ২০২৪-এ দায়িত্ব গ্রহণের পরেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ১০ শতাংশে স্থির রয়ে গেছে, যা পূর্বের ১১.৬৬ শতাংশ থেকে সামান্য হ্রাস সত্ত্বেও লক্ষ্যিত ৭ শতাংশের নিচে নামেনি।

আগস্টের আগের মাস, অর্থাৎ জুলাই ২০২৪-এ ক্ষমতাচ্যুত সরকার শেষ মাসে মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর সময়ই মুদ্রাস্ফীতি উচ্চ স্তরে ছিল।

গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার মোটামুটি সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশে মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সক্ষম হয়েছে, তবে এক অঙ্কের ঘরে নামলেও তা এক স্থানে আটকে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একাধিকবার মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণের পরেও বাস্তবে তা অর্জন করা যায়নি।

ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশে রেকর্ড হয়েছে, যা পূর্বের নভেম্বর মাসে ৮.২৯ শতাংশ থেকে বেড়েছে। একই সময়ে, জানুয়ারি মাসে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮.৮১ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে চার মাসের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতাকে হ্রাস করেছে, ফলে মৌলিক পণ্যের ক্রয়মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমে ব্যবসায়িক বিক্রয়েও চাপ পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চাহিদা দিক থেকে নীতি হার বাড়িয়ে ঋণগ্রহণ কমানো হয়েছে, তবে তা মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেনি। সরবরাহ শৃঙ্খলে দুইটি মূল বাধা রয়েছে: চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রধান ভোগ্যপণ্যের বড় বাজার খেলোয়াড়দের দখলদারী কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি এবং উৎপাদন থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর অনিয়মিত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ব্যবসা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ইনপুট খরচ বাড়িয়ে উৎপাদন খরচে চাপ সৃষ্টি করেছে, ফলে লাভের মার্জিন সংকুচিত হয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। রপ্তানি ভিত্তিক শিল্পগুলোতে মুদ্রা মূল্যের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়েছে।

নতুন সরকারকে এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ দিকের কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং বাজারে দখলদারী রোধের জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা প্রয়োজন, নতুবা মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামা কঠিন হবে।

সারসংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের অগ্রগতি সীমিত রয়ে গেছে, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অব্যাহত বাধা ও নীতি হারের সীমিত প্রভাব ভবিষ্যতে ব্যবসা ও গৃহস্থালির আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments