ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান ১১৪টি ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাবের দিকে ভারত এ দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। সরকার এই চুক্তির জন্য প্রাথমিক বাজেট প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি রুপি নির্ধারণ করে, যা দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত। রাফাল বিমানগুলোকে যুক্ত করলে বিমান বাহিনীর আকাশীয় ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বাজেট অনুমোদনের পাশাপাশি ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। এই ইভেন্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকবেন, যা দুই দেশের কৌশলগত সংলাপকে আরও গভীর করবে। সম্মেলনের সময় রাফাল ক্রয়ের পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
ম্যাক্রোঁয়ের সফরের আগে রাফাল ক্রয়ের সব প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ সরকার থেকে এসেছে, যাতে ভিজিটের সময় চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে, এবং উভয় পক্ষের আইনগত পর্যালোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়ার পর সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা বিমানগুলোকে দ্রুত ফ্লাইং কন্ডিশনে ভারত এ পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।
পরবর্তী সপ্তাহে ডিফেন্স একুইজিশন কাউন্সিল (ডিএকে) এর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাফাল ক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা হবে। অধিবেশনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেবেন এবং চুক্তির শর্ত, ডেলিভারি সময়সূচি ও আর্থিক কাঠামো চূড়ান্ত করার দায়িত্ব নেবেন। এই বৈঠকের ফলাফল সরাসরি সরবরাহের সময়সীমা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
ডিএকে থেকে জানানো হয়েছে, ১১৪টি রাফাল বিমান মধ্যে ১৮টি ইতিমধ্যে ফ্লাইং কন্ডিশনে সরবরাহ করা হবে, যা প্রথম পর্যায়ে বিমান বাহিনীর কার্যকরী শক্তি বাড়াবে। বাকি বিমানগুলো পরে ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত থাকবে, এবং তাদের গ্রহণের সময়সূচি ধাপে ধাপে নির্ধারিত হবে। ৮৮টি বিমানে একক পাইলটের জন্য সিট থাকবে, আর ২৬টি বিমানে দু’জন পাইলটের জন্য সিট ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা মিশন প্রোফাইলের বৈচিত্র্যকে সমর্থন করবে।
রাফাল ফ্রান্সের সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত এবং উচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, যার রেডার-অবসর্ভিং ক্ষমতা ও বহুমুখী অস্ত্র সিস্টেম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত ভারত এ মোট ৩৬টি রাফাল সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে আটটি দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত, যা পাইলট প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে। এই ধারাবাহিক সরবরাহ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করেছে এবং ভবিষ্যৎ ক্রয় পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুক্ত হওয়ার ফলে ভারত এ বিমান বাহিনীর আকাশীয় ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে বহুমাত্রিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে ফ্রান্সের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বও শক্তিশালী হবে, যা সামরিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার দরজা খুলে দেবে। এই চুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করবে।
পরবর্তী ধাপে ডেলিভারি সূচি নির্ধারণ, পাইলট ও মেকানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করা এবং রাফাল বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে সরবরাহের সময়সীমা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করবে, যাতে বিমানগুলো কার্যকরভাবে সেবা শুরু করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি ভারত এ আকাশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন স্তরে পৌঁছানোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।



