মুম্বাই সেশন কোর্ট শাহিদ কাপুরের প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ‘ও’রোমিও’ চলচ্চিত্রের মুক্তি বাধা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আবেদনটি মৃত মুম্বাই বাসিন্দা হুসেইন উস্তারার কন্যা সানোবার শাইখের পক্ষ থেকে দায়ের হয়েছিল। আদালত এই সিদ্ধান্ত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত মুক্তি তারিখের আগে দিয়েছে।
অতিরিক্ত সেশন জাজ এইচসি শেন্ডে মামলাটি খারিজ করার সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তার রায়ের মন্তব্যগুলো কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের এবং কোনো শেষ সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এই আদেশের পর্যবেক্ষণগুলো সিভিল মামলার চূড়ান্ত রায়কে প্রভাবিত করবে না।
শাইখের কন্যা সানোবার শাইখ তার পিতার জীবনের ভিত্তিতে ছবিটি তৈরি হওয়ায় তাকে গ্যাংস্টার হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন যে, চলচ্চিত্রের ট্রেইলার তার পিতার সুনাম ক্ষুন্ন করেছে এবং বাস্তব ঘটনার বিকৃত উপস্থাপনা ঘটিয়েছে।
শাইখের আইনজীবী ডি.ভি. সারোজ আদালতে যুক্তি দেন যে, হুসেইন উস্তারা একজন সাংবাদিক এবং মুম্বাই পুলিশ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
উস্তারার কাজের ফলে তার জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তিনি ১৯৯৪ সালের ৪ আগস্ট মুম্বাই পুলিশের কমিশনারের অফিস থেকে একটি চিঠি পেয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের অনুমোদন চেয়েছিলেন। এই চিঠি তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা চলচ্চিত্রের মুক্তি স্থগিতের পাশাপাশি একটি আদালত-নিয়ুক্ত কমিশনার বা স্বতন্ত্র সংস্থার মাধ্যমে পূর্বপ্রদর্শনের দাবি করেন। তারা চান যে, চলচ্চিত্রটি জনসাধারণের সামনে প্রকাশের আগে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হোক।
পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুসেইন উস্তারা দাওদ ইব্রাহিমের ডি-কম্পানির সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত ছিলেন এবং গ্যাংকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতেন। তার এই অবস্থানকে তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মামলাটি এখনও সিভিল প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত রায় আসা পর্যন্ত বিষয়টি চলমান থাকবে। তাই, চলচ্চিত্রের মুক্তি বাধা না দিয়ে আদালত মূলত মামলার মূল বিষয়গুলোকে আলাদা রেখেছে।
‘ও’রোমিও’ ছবির নির্মাতা ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এখন নির্ধারিত ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পরিকল্পনা অনুসারে কাজ চালিয়ে যাবে। ছবির প্রচারমূলক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং টিকিট বিক্রয় চলমান।
এই সিদ্ধান্তের ফলে চলচ্চিত্রের দর্শকরা নির্ধারিত তারিখে সিনেমা হলে ছবিটি দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে, উস্তারার পরিবার এখনও সিভিল মামলায় তাদের দাবিগুলো বজায় রাখবে।
মুম্বাই পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সঙ্গে উস্তারার সহযোগিতার তথ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে, তবে এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত রায়ে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা সিভিল মামলাটি ভবিষ্যতে উস্তারার সুনাম পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে চলচ্চিত্রের মুক্তি বাধা না দিয়ে আদালত তার মূল কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
এই রায়টি বিনোদন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল, যেখানে আইনি চ্যালেঞ্জের পরেও চলচ্চিত্রের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। দর্শকরা শীঘ্রই শাহিদ কাপুরের নতুন চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।



